নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: আজ, বুধবার মদনমোহনের রাসচক্র ঘুরবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে। তার আগে বিকেল ৫টায় পসার ভাঙা ও রাসযাত্রার পুজারম্ভ। ৬টায় মদনমোহনের অধিবাস। মদনমোহন মন্দিরের পুরোহিত খগপতি মিশ্র পুজো করবেন। কোচবিহারের নতুন জেলাশাসক রাজু মিশ্র রাসচক্র ঘোরাবেন। তারপরই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে মন্দিরের গেট। রাস উৎসবের সময়ে মন্দিরের গেট খোলা থাকবে রাত ১১টা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় পুজো শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য প্রসাদ নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন দুই কর্মী।
মদনমোহনের রাস উৎসব উপলক্ষ্যে মন্দির আলো ও ফুলের মালায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সেজে উঠতে শুরু করেছে রাসমেলা ময়দানও। এই বিরাট আয়োজনকে সফল করতে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাইরের জেলা থেকে প্রায় সাড়ে ৫০০ পুলিশ অফিসার ও কর্মী রাসমেলার নিরাপত্তার জন্য আসছেন। প্রায় ৯০০ সিভিক ভলান্টিয়ার থাকবেন। ৮টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সর্বদা রাসমেলা ময়দান ও মদনমোহন মন্দিরের উপর নজর রাখা হবে। শহরের ৮টি পয়েন্ট থেকে পণ্যবাহী গাড়ির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিভিন্ন রাস্তায় থাকছে প্রচুর সিসি ক্যামেরা। মঙ্গলবার রাতেই মন্দির সাজিয়ে তোলার কাজ শেষ হয়েছে।
কোচবিহারের নতুন পুলিস সুপার সন্দীপ কাররা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ৫ থেকে ১৯ নভেম্বর রাসমেলা চলবে। তারজন্য পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাইরের জেলা থেকে ফোর্স আসছে।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানিয়েছেন, কোচবিহারের মহারাজাদের সূচনা করা মদনমোহনের রাসযাত্রা উপলক্ষ্যে রাসমেলা এবার ২১৩তম বর্ষে পড়ল। কলকাতা, মুম্বই থেকে শিল্পীরা আসবেন। সবরকমের প্রস্তুতি চলছে। প্রায় আড়াই হাজার স্টল থাকবে মেলায়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাইরে থেকে একজন পুলিশ সুপার, দু’জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১২ জন ডিএসপি, ২৪ জন ইনস্পেকটর, ১৫০ জন সাব ইনস্পেকটর, ৭ জন মহিলা অফিসার, ৩৫০ জন কনস্টেবল ছাড়াও প্রায় ৯০০ সিভিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি জেলার পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরাও
থাকবেন।
রাস উৎসবে দিনগুলিতে সকাল ৯টায় মন্দিরের গেট খুলবে। মন্দিরের বাইরে থাকবে দু’টি জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখানে মন্দিরের ভিতরের সমস্ত অনুষ্ঠান দেখা যাবে। মন্দিরে চলবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতা থেকে দু’টি ও স্থানীয় যাত্রাপালা দল যাত্রা মঞ্চস্থ করবে। কলকাতার দু’টি কীর্তনের দলও আসবে। এছাড়াও থাকবে বাউল, ভাওয়াইয়া সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। প্রতিবছর রাস উৎসব ও রাসমেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। ১৫ দিন ধরে চলা এই মেলা গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় মেলা।