নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: হাঁসখালিতে নাবালিকাকে গণধর্ষণের মামলায় মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করল রানাঘাটের এডিজে আদালত। গত সোমবারই এই মামলায় মোট ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। রানাঘাটের বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক সৌমেন গুপ্ত মামলার প্রধান তিন অপরাধী সোহেল ওরফে ব্রজ গয়ালি, প্রভাকর পোদ্দার এবং রঞ্জিত মল্লিককে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। মামলায় দোষী সাব্যস্ত সমরেন্দ্র গয়ালি, দীপ্ত গয়ালি ও পীযূষকান্তি ভক্তকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সমরেন্দ্র ও দীপ্ত গয়ালি মূল অপরাধী সোহেলের বাবা ও মা। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট, হুমকি ও ষড়যন্ত্রে শামিল হওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। অংশুমান বাগচিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট, মূল অপরাধীদের সাহায্য করা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া আকাশ বারুই ও এক নাবালককে পঞ্চাশ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে শর্তসাপেক্ষে এক বছরের জন্য জামিনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে মূল অপরাধীদের সহযোগিতা করা, ভয় দেখানো ও অপরাধের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তবে রায় ঘোষণার পর নির্যাতিতার মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোষীদের ফাঁসি হলে আমি আরও খুশি হতাম।
আসামী পক্ষের আইনজীবী রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পারিপার্শ্বিক যে সমস্ত প্রমাণ রয়েছে, তা এই মামলার রায়ে প্রতিফলিত হয়নি। আমরা এবার হাইকোর্ট যাব। সিবিআই যে তদন্ত করেছে, তা সঠিক নয় আমার মনে হয়েছে। কারণ পোটেন্সি টেস্ট করেনি সিবিআই। পুলিশের তদন্তের নির্যাতিতার বাড়ির লোকজন গোপন জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আবার দু’ মাস বাদে সিবিআই যে গোপন জবানবন্দি নেয়, তার বয়ান আলাদা ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় নদীয়ার হাঁসখালিতে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয়। ওইদিন রাতে প্রমাণ লোপাট করতে নাবালিকাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে দোষীরা। তবে পরদিন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই নাবালিকার মৃত্যু হয়। অভিযোগ, প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ তড়িঘরি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার চার দিন পর, ৯ এপ্রিল নির্যাতিতার পরিবার হাঁসখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে রাজ্য পুলিশ। ১০ এপ্রিল গভীর রাতে মূল অভিযুক্ত সোহেল গয়ালিকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্তের বাড়িতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানেই অপরাধ সংঘটিত হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তারপর ১৩ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। ২৯ এপ্রিল সিবিআই গ্রেফতার করে সোহেল গয়ালির বাবা সমরেন্দ্র গয়ালি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পীযূষকান্তি ভক্তকে। এছাড়া তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে ১৫ মে হাঁসখালি থানার একাধিক পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। এই মামলায় শেষ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে একজন নাবালক ছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে সিবিআই ৭ জনকে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্য পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করেছিল।