Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজ্ঞপ্তি নেই, হয়নি ইন্টারভিউও চাকরিতে ছাত্রনেতা, নেতার মেয়ে! মহত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী নিয়োগে বিতর্ক

কোনও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই। নেই ইন্টারভিউও। তবুও চুপিসারে পূর্ব মেদিনীপুরের মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। গুরুতর অভিযোগ রয়েছে চাকরি প্রাপকদের তালিকা নিয়েও।

বিজ্ঞপ্তি নেই, হয়নি ইন্টারভিউও চাকরিতে ছাত্রনেতা, নেতার মেয়ে! মহত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী নিয়োগে বিতর্ক
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কোনও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই। নেই ইন্টারভিউও। তবুও চুপিসারে পূর্ব মেদিনীপুরের মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। গুরুতর অভিযোগ রয়েছে চাকরি প্রাপকদের তালিকা নিয়েও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল পার্টি অফিসের হোলটাইমার থেকে দলের ব্লক সহ সভাপতির মেয়ে সহ বেশ কয়েকজন ইউনিয়ন নেতা চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। কসবা কাণ্ডের পর একে একে সামনে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে ছাত্রনেতা ও স্থানীয় নেতাদের ‘রাজপাট’ চালানোর বিস্তর অভিযোগ। এবার নতুন সংযোজন মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়। যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। দাবি উঠেছে, কোন যোগ্যতায় ছাত্রনেতা ও তৃণমূল নেতাদের লোকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কাজে নিযুক্ত হলেন, তা প্রকাশ্যে আনা হোক। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়োগ বিতর্কে মহিষাদল রাজ কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের নেতাদের যুক্ত থাকার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয়রা। কেননা, এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনও ভবন নেই। অফিসিয়াল কাজকর্ম ও পঠনপাঠনে কলেজের উপরেই নির্ভর করতে হয়। সেই সুযোগে ছাত্রনেতারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ছড়ি ঘোরাতে পারেন বলে অভিযোগ।  

Advertisement

মহিষাদলের বিধায়ক কার্যালয়ের হোল টাইমার ছিলেন সৌমেন সামন্ত। এখন তিনি মহাত্মা গান্ধী ইউনিভার্সিটিতে কাজ করেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সহ সভাপতি অরুণ দিণ্ডার মেয়ে দেবারতিও একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও জগদীশ প্রধান, শুভজিৎ সামন্ত, অভিজিৎ সাউ আরও কয়েকজন রাতারাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেকেই মহিষাদল রাজ কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। আচমকা  তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হওয়ায় অনেকেই হতবাক।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু। মহিষাদলের কাপাসএড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের কাজ আপাতত অথৈ জলে। রাজ কলেজের ক্যাম্পাসে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। শুরু থেকেই বাংলা, ইতিহাস, অঙ্ক ও ইংরেজিতে ৩৩টি করে আসনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে পঠনপাঠন হয়। একমাত্র উপাচার্য ছাড়া কোনও স্থায়ী অধ্যাপক, অফিসার কিংবা কর্মী নেই। অবসর নেওয়া অধ্যাপকদের পুনর্নিয়োগ করা হয়। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েটে চারটি বিষয়ে যাতে ৩৩টির জায়গায় আসন সংখ্যা ৫০টি করে হয়, সেজন্য উচ্চ শিক্ষাদপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও নতুন সেশন থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, ভূগোল, ফিল্ম অ্যান্ড থিয়েটার এবং দর্শন বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স অনুমোদন চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন উপাচার্য। এখনও কোনও সবুজ সংকেত আসেনি।
একেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নিয়ে বিস্তর ক্ষুব্ধ পড়ুয়া থেকে স্থানীয়রা। তার উপর নিয়োগ বিতর্ক সামনে আসতেই তুমুল আলোড়ন পড়েছে।    দৈনিক ৪৬৩ টাকার পারিশ্রমিকে তৃণমূলের হোলটাইমার থেকে শুরু নেতার মেয়ে, ছাত্রনেতাকে নিয়োগ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অফিসের খাতা ও ফাইলপত্র রক্ষণাবেক্ষণ, চিঠিপত্র টাইপ সহ নানা কাজে তাঁদের লাগানো হচ্ছে। কীসের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ করা হল, এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কোনও সদুত্তর নেই। এজেন্সির মাধ্যমে কাউকেই নিযুক্ত করা হয়নি। সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ করেছে। আর সেই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি বলে অভিযোগ। না দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞাপন। না নেওয়া হয়েছে ইন্টারভিউ। 
এ নিয়ে উপাচার্য সৌরাংশু মুখোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘উচ্চ শিক্ষাদপ্তরের খাতায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও শূন্যপদ নেই। ভ্যাকান্সিও তৈরি করা হয়নি। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কাজের জন্য কিছু কর্মীর প্রয়োজন। তাই দৈনিক পারিশ্রমিকের নিরিখে মোট ছ’জনকে নেওয়া হয়েছে। আগে চারজন নিযুক্ত হন। পরে আরও দু’জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। সকলেই নো ওয়ার্ক নো পে’র ভিত্তিতে কাজ করছেন।  বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক জয়ন্ত দে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গাইডলাইন এখনও তৈরি হয়নি। এই অবস্থায় দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কয়েকজনকে রাখা হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ