Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলা কমিটি নিয়ে কোন্দল, বিজেপির একাধিক পার্টি অফিসে ঝুলছে তালা, বাঁকুড়ায় বিপাকে গেরুয়া শিবির

জেলা কমিটি ঘোষণার পর থেকে বাঁকুড়ায় বিজেপির কোন্দল কিছুতেই কমছে না। জেলা কমিটিতে দলবদলুরা ঠাঁই পাওয়ায় জঙ্গলমহলের একের পর এক ব্লকে ক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

জেলা কমিটি নিয়ে কোন্দল, বিজেপির একাধিক পার্টি অফিসে ঝুলছে তালা, বাঁকুড়ায় বিপাকে গেরুয়া শিবির
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: জেলা কমিটি ঘোষণার পর থেকে বাঁকুড়ায় বিজেপির কোন্দল কিছুতেই কমছে না। জেলা কমিটিতে দলবদলুরা ঠাঁই পাওয়ায় জঙ্গলমহলের একের পর এক ব্লকে ক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। রানিবাঁধ, রাইপুর, খাতড়া, সিমলাপাল সহ অন্যান্য ব্লক এলাকায় গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কার্যত ‘মুষল পর্ব’ শুরু হয়েছে। কোনও জায়গায় এক নেতা অন্য নেতার বাড়িতে চড়াও হয়ে মহিলাদের সামনে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছেন। আবার কোনও এলাকায় দলের নেতার বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মী গিয়ে থানায় এফআইআর করছেন। বহু পার্টি অফিসে তালা পড়েছে। বিক্ষোভের আশঙ্কায় জেলাস্তরের নেতারা জঙ্গলমহলে সেভাবে যাচ্ছেন না। এভাবে দল চললে সংগঠনে ধস নামবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। 

Advertisement

গেরুয়া শিবিরের এই ছন্নছাড়া পরিস্থিতির সুযোগ নিতে তৃণমূল ঝাঁপিয়ে পড়েছে। জঙ্গলমহলে ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করতে বিধানসভা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই ময়দানে নেমেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিজেপি-র রানিবাঁধ ব্লকের কনভেনর অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, আমরা দলের কার্যালয়ে তালা মেরে দিয়েছি। বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলে চলে যাওয়া লোকজনকে নতুন জেলা কমিটি থেকে বাদ দিতে হবে। তাঁদের বাদ না দেওয়া পর্যন্ত  রানিবাঁধের দু’টি মণ্ডলের কেউ আর বিজেপি-র ঝান্ডা ধরবে না। পার্টি অফিস খোলার লোকও নেই। আমরা দলের হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করব আর তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করে চলা লোকজনকে নিয়ে জেলা কমিটিতে জায়গা দেবে, সেটা মেনে নেওয়া হবে না। রানিবাঁধের পাশাপাশি খাতড়া, রাইপুর, সিমলাপাল সহ জেলাজুড়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই ক্ষোভের আগুনে বিজেপি-র সংগঠন পুড়ে খাঁক হয়ে যাবে। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দল একটা পরিবারের মতো। একসঙ্গে থাকলে মাঝেমধ্যে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ঠোকাঠুকি লাগে। দলেও তাই হচ্ছে। তবে আমরা দ্রুত সবপক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সমস্যা মিটিয়ে নেব। জঙ্গলমহলে এবারের নির্বাচনে বিজেপির ফল ভালো হবে। বাঁকুড়ার সাংসদ তথা তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরূপ চক্রবর্তী বলেন, জঙ্গলমহলে বিজেপি-র সংগঠন বলে কিছু নেই। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের উপর ভরসা করেই আমরা বিধানসভা ভোটে ভালো ফল করব।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিবাঁধের মতোই সিমলাপালের বিক্রমপুর সহ একাধিক জায়গায় বিজেপির পার্টি অফিস খোলার লোক নেই। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় সিমালাপালে দলের প্রাক্তন মণ্ডল সম্পাদকের বাড়িতে বিজেপির নেতাকর্মীরা চড়াও হয় বলে থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। খাতড়ায় বুথ লেভেল এজেন্টদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন বিজেপি নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। জেলা কমিটিতে এক জমি দালালকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে বলে খাতড়ার বিজেপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন। ওই সদস্যকে জেলা কমিটি থেকে বাদ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মীরা দল করবেন না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামগ্রিক ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্ব সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে। এক বিজেপি নেতা বলেন, বাঁকুড়ায় শক্তিশালী সংগঠন ছিল। এক দলবদলু নেতার কথামতো ‘দাগি’দের দলে নিতে গিয়েই বিপত্তি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ