Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালীগঞ্জ বিধানসভা উপ নির্বাচনের গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু রাজনৈতিক তরজা

কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের গণনা প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। কারণ, মাত্র ১৬টি টেবিলে ভোট গণনা হবে। ২২ রাউন্ড গণনার পর ফলাফল জানা যাবে।

কালীগঞ্জ বিধানসভা উপ নির্বাচনের গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু রাজনৈতিক তরজা
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের গণনা প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। কারণ, মাত্র ১৬টি টেবিলে ভোট গণনা হবে। ২২ রাউন্ড গণনার পর ফলাফল জানা যাবে। এতে ফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক দলগুলি। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণনা প্রক্রিয়া ধীর গতিতে করার অভিযোগ তুলেছে বাম-কংগ্রেস জোট। একইসঙ্গে, গণনায় অল্প সংখ্যক টেবিল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। গত লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর লোকসভার গণনা প্রক্রিয়া ১২ থেকে ১৩ রাউন্ডের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছিল। সেখানে উপনির্বাচনের গণনা ২২ রাউন্ডে হওয়ায় সরব রাজনৈতিক দলগুলি। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামিকাল, সোমবার কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের তিন দলের প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। ভোট গণনা হবে পানিঘাটা উমাদাস স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেইমতো গণনা কেন্দ্রকে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলা হয়েছে।‌ গণনা কেন্দ্রে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরাও দফায় দফায় গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। ‌শনিবার নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ, কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। 
জানা গিয়েছে, দু’টি ঘরে সকাল ৮টা থেকে গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে। দু’টি রুমে থাকবে ৮টি করে টেবিল। মোট ১৪টি টেবিলে ইভিএমের ভোটের গণনা হবে। আর দু’টি টেবিল রাখা হয়েছে ব্যালট গোনার জন্য। সবমিলিয়ে মোট ৩০৯টি বুথের ভোট গণনা হবে ২২ রাউন্ডে। যা উপনির্বাচনে বেনজির বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রতিটি দলের ১৭ জন কাউন্টিং এজেন্ট সেখানে থাকতে পারবেন।‌ রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, প্রতি রাউন্ড গণনার জন্য কমপক্ষে আধ ঘণ্টা সময় লাগবে। সেই জন্য ২২ রাউন্ড গণনা শেষ হতে প্রায় ১১ ঘণ্টা সময় লাগবে। ফলে রাত ৮টার আগে ভোটের সম্পূর্ণ ফল পাওয়া যাবে না। 
কংগ্রেস প্রার্থীর এজেন্ট আব্দুল রহিম শেখ বলেন, প্রথমে বলা হয়েছিল ৩২টি টেবিলে কাউন্টিং হবে। তাতে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত ১৬টি টেবিলে কাউন্টিং হবে। শেষের দিকে মাটিয়ারি ফরিদপুর পঞ্চায়েত এলাকার বুথের কাউন্টিং রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজেপির দখল আছে। গণনা প্রক্রিয়া যত রাত গড়াবে ততই বিশৃঙ্খলা হবে। এতে গণনায় কারচুপি হতে পারে। যা নিয়ে আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। কালীগঞ্জের সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, যে প্রক্রিয়ায় গণনা করা হচ্ছে, যা শেষ হতে গভীর রাত হবে। অতীতে এই পানিঘাটার গণনা কেন্দ্রে একাধিকবার গভীর রাত পর্যন্ত ভোট গণনার সুযোগে শাসক দল কারচুপি করে জিতেছিল। 
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, অতীতে দেখা গিয়েছে শাসকদল কারচুপি করেছে। তাই গণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে নির্বাচন কমিশন ও অবজার্ভারার যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।
এমনিতেই উপনির্বাচনের সাধারণ পর্যবেক্ষকের নিরপেক্ষতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপির হয়ে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ আনা হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের তরফে। এছাড়াও ইচ্ছাকৃতভাবে’ গণনা কেন্দ্রে টেবিল কমানো, সিসিটিভি প্রতিস্থাপন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ পর্যবেক্ষকের গোপন বৈঠকের  মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। 
কালীগঞ্জ ব্লকের তৃণমূলের সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। যেভাবে গণনা প্রক্রিয়া করা হচ্ছে, তাতে সম্পূর্ণ ফল প্রকাশে অনেক দেরি হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ