Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২১ জুলাই সেকেন্ড সেমেস্টারের পরীক্ষা বাতিল, সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক

পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নির্দেশিকা জারি করে বিতর্কে জড়াল পুরুলিয়ার সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার জারি করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ইউজি পড়ুয়াদের সেকেন্ড সেমেস্টারের যেসব পরীক্ষা ২১ জুলাই হওয়ার কথা ছিল, বিশেষ কারণ বশত তা স্থগিত করা হল।

২১ জুলাই সেকেন্ড সেমেস্টারের পরীক্ষা বাতিল, সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নির্দেশিকা জারি করে বিতর্কে জড়াল পুরুলিয়ার সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার জারি করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ইউজি পড়ুয়াদের সেকেন্ড সেমেস্টারের যেসব পরীক্ষা ২১ জুলাই হওয়ার কথা ছিল, বিশেষ কারণ বশত তা স্থগিত করা হল। পরিবর্তে আগামী ২৫ জুন সেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এনিয়েই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সিপিএম-বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এনিয়ে সরব হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, একুশে জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবস রয়েছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি গৌতম রায় বলেন, এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা। তারউপর এই তৃণমূল সরকার আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বুধবার সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেভাবে পরীক্ষার সময়সূচির পরিবর্তন করেছে, তা শিক্ষাজগতে একটা কালো দিন। পড়ুয়াদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ধর্মতলা যেতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক সায়ন্তন ঘোষ বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি নেতারা করবেন। কিন্তু, তারসঙ্গে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তৃণমূল চাপ সৃষ্টি করে এই পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। ওরা এনিয়ে ডেপুটেশনও দিয়েছিল। যদিও এনিয়ে কোনও বিতর্কই দেখছেন না সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক সুবলচন্দ্র দে। তিনি বলেন, ওইদিন প্রায় ২০ হাজার ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। এক কলেজের পড়ুয়া অন্য কলেজে পরীক্ষা দিতে যাবেন। প্রশাসনের থেকে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ওইদিন রাস্তাঘাটে ঠিকমতো বাস চলবে না। ফলে ওইদিন পরীক্ষার আয়োজন করলে পড়ুয়াদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। কোনও পড়ুয়ার যাতে অসুবিধা না হয়, তাই পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের ব্যাপারে পড়ুয়ারাও আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। এতে অহেতুক রাজনৈতিক রং লাগানো হচ্ছে। তবে, ওইদিন পোস্ট গ্রাজুয়েট পড়ুয়াদের পরীক্ষা রয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি কিরীটী আচার্য বলেন, জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষ একুশে জুলাই শহিদ সমাবেশে যাবে। ওইদিন ধর্মতলা যাওয়ার জন্য জেলার সমস্ত সরকারি, বেসরকারি বাস আমরা ভাড়া করেছি। ফলে ওইদিন পরীক্ষা হলে পরীক্ষার্থীরাই সমস্যায় পড়বে। সেই কারণেই পড়ুয়াদের স্বার্থেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন করেছিলাম, যাতে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়। এতে কোনও রাজনৈতিক চাপ নেই। বিজেপি সিপিএম কোনও ইস্যু না পেয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ