সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: ২০১২ সালে নদীয়ার তেহট্টে জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে গুলি চলেছিল। সেই ঘটনায় বিতর্কে জড়ানো আইপিএস অফিসার ডাঃ শৈলেশকে এসআইআর পর্বে রাজ্যের স্পেশাল রোল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। এই আমলা বর্তমানে দিল্লিতে ন্যাশনাল হেল্থ অথরিটির ডেপুটি সেক্রেটারি পদে কর্মরত।
পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ২০১০ ব্যাচের আইপিএস অফিসার ছিলেন ডাঃ শৈলেশ। ২০১২ সালে নভেম্বর মাসে জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে তেহট্টে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলাকালীন নিজের বাংলোর ছাদে উঠে উত্তেজিত জনতাকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি চালান বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যুও হয়। সেই গুলি-বিতর্কের পর পুলিশের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে আইএএস পরীক্ষায় বসেন তিনি। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৩ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইএএস হন তিনি। তবে ত্রিপুরাতেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাঁর। পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক পদে থাকার সময়, ২০২১ সালের কোভিড পর্বে আগরতলার এক বিয়েবাড়িতে ঢুকে করোনা বিধি ও বিপর্যয় মোকাবিলা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কার্যত তাণ্ডব চালান এই আইএএস অফিসার। সেদিন তাঁর হাত থেকে বর-কনে, পুরোহিত, কনের বাবা-মা, এমনকি পুলিশকর্মীরাও রেহাই পাননি বলে অভিযোগ। সেই তাণ্ডবের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে রীতিমতো ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। বিতর্কের জেরে ত্রিপুরা সরকার ডাঃ শৈলেশকে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাঁর বিরুদ্ধেই গোপনে তদন্ত শুরু করেন।
ওই ঘটনার পর ত্রিপুরাতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ওই আইএএস অফিসারকে। রাজ্য প্রশাসনে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি। এরপরই ত্রিপুরা ছেড়ে সেন্ট্রাল ডেপুটেশনে দিল্লিতে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু ত্রিপুরা হাইকোর্টে তাঁর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দাখিল হওয়ায় তাঁর প্রমোশন এবং সেন্ট্রাল ডেপুটেশন আটকে যায়। প্রায় দু’বছর মামলা চলার পর ত্রিপুরা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে ‘ক্লিনচিট’ দিলে দিল্লিতে চলে যান তিনি।