Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পণ্যে নিয়ন্ত্রণ: চাপে বাংলাদেশের প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা

এদেশে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বেশকিছু নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে ভারত। এজন্য বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে প্রতিবেশী দেশটি।

পণ্যে নিয়ন্ত্রণ: চাপে বাংলাদেশের  প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এদেশে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বেশকিছু নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে ভারত। এজন্য বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে প্রতিবেশী দেশটি। সেদেশে ৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধাক্কা খেতে পারে দিল্লির সিদ্ধান্তে। ভারতীয় মুদ্রায় তা প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকা। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

Advertisement

ভারত জানায়, পোশাকসহ বেশকিছু পণ্য স্থলবন্দর মারফত এদেশে আনা যাবে না। কলকাতাসহ মাত্র দুটি বন্দর দিয়েই রেডিমেড পোশাক আনা যাবে এখানে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফল ও বিশেষ কিছু পানীয়, সুতো, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত দ্রব্য, কাঠের আসবাবসহ বেশকিছু পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে ভারত। বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৪২ শতাংশ রেডিমেড পোশাক গোছের পণ্য। সেগুলির উপরই নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে দিল্লি। ৭৭ কোটি ডলারের সার্বিক লেনদেনের মধ্যে পোশাকের পরিমাণ প্রায় ৬২ কোটি। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশি পোশাক আমদানিতে লাগাম টানার অভ্যন্তরীণ দাবি বহু পুরনো। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের দাবি, চীন থেকে শুল্কবিহীন কাপড় আমদানি করে বাংলাদেশ। তাতে পোশাক বানিয়ে রপ্তানি করার সময় তারা সরকারি ভর্তুকি পায়। ফলে তারা পোশাক সস্তায় বেচতে পারে। তারা বেচতে পারে ভারতের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ কম দামে। তাদের জন্যই ভারতীয় রেডিমেড পোশাকের বাজার মার খায়। কেন্দ্রের নয়া নীতি এদেশের পোশাক ব্যবসাকে চাঙ্গা করবে বলে দাবি করেছে ওই সংস্থা। তারা বলছে, এর ফলে ভারতের বস্ত্রভিত্তিক যে এমএসএমই সেক্টর রয়েছে, তারা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে পশ্চিমবঙ্গের পোশাক শিল্পও বিশেষভাবে উপকৃত হবে।  
অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলও দাবি করেছে, ভারতের এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবে ছোট শিল্প সংস্থাগুলি। অন্য‌঩দিকে, আন্তর্জাতিক লেনদেন বিশেষজ্ঞদের কথায়, বাংলাদেশি পণ্যের উপর ভারত যে নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে, তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে এতদিনে সামঞ্জস্যপূর্ণ হল। তার কারণ, ভারতের তরফে শুল্ক-সুবিধা পেয়ে এলেও ভারতের সুতো আমদানি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এতদিন নানাবিধ নিয়ন্ত্রণ জারি রেখে এসেছে। তার ফল ভুগতে হয়েছে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের। পাশাপাশি তারা এখানকার পণ্য আমদানি করার সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বহর অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ায়। বাংলাদেশ ধরেই নিয়েছিল, তাদের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য চিরকাল তাদের সুবিধা দিয়ে আসবে। এবার তাতে বড় রকমের ভাটা পড়ল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, ওই রাজ্যগুলিতে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি কমলে সেভাবে ভারতীয় পণ্য আরও বেশি করে বাজার দখল করতে পারবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ