সংবাদদাতা, তপন: গোফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুলতানিপুর সেতুর একপাশে রাস্তা ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সমস্যায় পড়েছে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা। ধীরুহাজি মোড় থেকে গোফানগর মোড় পর্যন্ত রাস্তার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এখন যানবাহন নিয়ে তাঁদের প্রায় ১০ কিমি ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সেতুটি মেরামতের জন্য জেলা পরিষদ থেকে ১২ লক্ষ টাকা মেরামত হয়। প্রায় দেড়মাস আগে সেতু মেরামতের কাজও শুরু করে বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা। কিন্তু সেই কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার পালিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
গোফানগরের মানুষের অভিযোগ, সেতুর নীচের কিছু পিলারে শুধু সংস্কার করা হয়েছে। গার্ডওয়াল নির্মাণেও গাফিলতি ছিল। রাতের অন্ধকারে কয়েকদিন কাজ করে ঠিকাদার সংস্থা হঠাৎ মাস খানেক ধরে বেপাত্তা হয়ে যায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেতুটির পিলার মেরামত, নতুন করে রেলিং দেওয়ার কথা ছিল। সেতুর ধারের মাটি যাতে ধসে না যায়, সেজন্য গার্ডওয়াল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রেলিং ও গার্ডওয়াল হয়নি। মাসখানেক ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সেতুর সামনে রাস্তাটির দু’দিক অল্প অল্প করে ধসে যায়। কিছুদিন আগে রাস্তার একদিকে টিন ও বাঁশ দিয়ে কোনওরকমে টোটো যাতাযাতের ব্যবস্থা করেন স্থানীয়রা। কিন্তু গত শনিবার সেই ধসে যাওয়া রাস্তায় একটি টোটো উল্টে যায়। টোটোটিতে যাত্রী ছিল না। বরাত জোরে বেঁচে যান চালক।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামচরণ রবিদাস বলেন, কোনও সিডিউল না দিয়ে রাতের অন্ধকারে কাজ শুরু হয়েছিল। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় রাস্তার একপাশ ধসে পড়েছে। এখন যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ। দ্রুত মেরামত না হলে আমরা আন্দোলনে নামব। টোটো চালক রাজ্জাক সরকার জানান, ধসে যাওয়া রাস্তা দিয়ে টোটো চালানো যাচ্ছে না। এখন আমাদের ঘুরে যেতে হচ্ছে। কোন ঠিকাদার ওই কাজটি করেছেন, তা জানাতেই পারেননি সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি। বহু চেষ্টাতেও যোগাযোগ করা যায়নি ঠিকাদারের সঙ্গেও।
তবে জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্তামনি বিহা বলেন, ঠিকাদার আমাকে না জানিয়েই কাজ শুরু করেছিলেন। মাসখানেক ধরে কাজ বন্ধ রেখে তিনি যে চলে গিয়েছেন, সে খবরও আমায় কেউ জানায়নি। সোমবার ইঞ্জিনিয়াররা গিয়ে রাস্তাটি পরিদর্শন করবেন এবং দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।