Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হলদিয়া বন্দরে ঠিকা শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ডক ইয়ার্ডে কাজে বিঘ্ন

ঠিকা শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে বুধবার হলদিয়া বন্দরের একটি ডক ইয়ার্ডের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

হলদিয়া বন্দরে ঠিকা শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ডক ইয়ার্ডে কাজে বিঘ্ন
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: ঠিকা শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে বুধবার হলদিয়া বন্দরের একটি ডক ইয়ার্ডের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে বন্দরের একাংশে রেলওয়ে ওয়াগন বা রেলের রেক লোডিংয়ের কাজও থমকে গিয়েছে। বন্দরের ১৪ নম্বর বার্থের পাশে ওই ডক ইয়ার্ডে ম্যাঙ্গানিজ আকরিক লোডিংয়ের কাজ চলছিল। বন্দর থেকে ওই আকরিক রেলের রেক বোঝাই করে স্টিল প্ল্যান্টে নিয়ে যাওয়া হবে। তার আগেই শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে দফায় দফায় মিটিং হয়েছে। বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার(প্রশাসন) প্রবীণকুমার দাস বলেন, বন্দরের একটি ইয়ার্ডে দু’টি সংস্থার মধ্যে লোডিং-আনলোডিং নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের অফিসাররা এনিয়ে মিটিং করে কাজ চালু করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ, দুই ঠিকাদার সংস্থার ব্যবসায়িক ঝামেলার জেরে ওই বিক্ষোভের সূত্রপাত। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, হলদিয়া বন্দরের ১৪ নম্বর বার্থ সংলগ্ন ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহণের কাজ করছে একটি ঠিকাদার সংস্থা। সম্প্রতি বিদেশ থেকে ম্যাঙ্গানিজ আকরিক আমদানি করে দু’টি সংস্থা। সেই পণ্য ওই ইয়ার্ড থেকে বন্দরের অন্যপ্রান্তে রেলের রেকে বোঝাই করার বরাত দেওয়া ঘিরে ঝামেলা বেধেছে। এতদিন যে সংস্থা ওই ইয়ার্ড থেকে পণ্য পরিবহণের কাজ করত, তারা ওই বরাত পায়নি। অন্য একটি সংস্থা টন পিছু কম রেটে ওই কাজ করবে বলে বরাত পায়। তারা বাইরে থেকে ডাম্পার ভাড়া করে এনে কাজ শুরু করতেই ঝামেলা বাধে। ওই ইয়ার্ডে পুরনো ঠিকাদার সংস্থার গাড়ির ড্রাইভার, হেল্পার সহ শ্রমিকরা কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ। বিক্ষোভের জেরে লোডিংয়ের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের অভিযোগ, অনৈতিকভাবে নতুন একটি সংস্থা এসে কাজ করছে। ওই কাজ বরাবরই তাদের পুরনো সংস্থাই করে আসছে। এখানে শ্রমিকদের বেতনচুক্তির নিয়ম ভেঙে বাইরে থেকে গাড়ি এনে কাজ করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, পুরনো সংস্থার কাজ কমে গেলে শ্রমিকদের ছাঁটাই করে দেবে। কাজ চলে যাওয়ার আতঙ্কেই তাঁরা নতুন সংস্থাকে কাজে বাধা দিয়েছেন। 
তাছাড়া, ওই নতুন সংস্থার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের বঞ্চনা করার অভিযোগ রয়েছে। একসময় তারা বন্দরেই কাজ করত। কিন্তু তারা বছরের পর বছর শ্রমিকদের পিএফ ও ইএসআইয়ের কোটি কোটি টাকা জমা দেয়নি বলে আইএনটিটিইউসিও একাধিকবার অভিযোগ করেছে। বন্দরের ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের বক্তব্য, পণ্য পরিবহণ কমে যাওয়ার সঙ্গে কাজ নিয়ে ঠিকাদার ও শ্রমিকদের মধ্যে এভাবে ঝামেলা ও বিক্ষোভ বাড়ছে। গত কয়েক মাসে একের পর এক এধরনের ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে উদ্বিগ্ন সকলেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ