Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একনাগাড়ে জল ছাড়ায় ব্যারাজ সংস্কারের কাজে বিঘ্ন তিলপাড়ায়

জুলাই মাসেই তিলপাড়া ব্যারাজের সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল।

একনাগাড়ে জল ছাড়ায় ব্যারাজ সংস্কারের কাজে বিঘ্ন তিলপাড়ায়
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: জুলাই মাসেই তিলপাড়া ব্যারাজের সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। যদিও বর্ষার মরশুম শুরু হতেই ব্যারাজের লকগেট খুলে একনাগাড়ে জল ছাড়ার ফলে নির্মাণ কাজ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ব্যারাজ সংস্কারের কাজের গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যারাজ সংস্কারের কাজ কবে শেষ হবে, তা অবশ্য এখন অস্পষ্ট। এনিয়ে বীরভূম জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিকরা স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করতে পারছেন না। তবে, সেচদপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, জল ছাড়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হলে প্রথমেই ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হবে। তারপর নতুন করে সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। 

Advertisement

সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, অবিরাম জল ছাড়ার ফলে এখনও ক্ষতির পরিমাণ পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ব্যারাজ সংস্কারের কাজ সঠিক কবে শেষ হবে, তা এখনই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তিলপাড়া ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ব্যারাজের ডাউন স্ট্রিমে প্রথমেই বোল্ডার সসেজ ক্রেট নতুন করে তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছিল। যদিও বর্ষার মরশুম শুরু হতেই সেই কাজের গতি মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সেচদপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ড থেকে লাগাতার ধেয়ে আসা জল সহ বৃষ্টিপাতের জেরে ময়ূরাক্ষী নদী ফুলেফেঁপে উঠতে শুরু করেছিল। এই পরিস্থিতিতে জলস্তর স্বাভাবিক রাখার জন্য জুন মাসের ২৫ তারিখ থেকে তিলপাড়া ব্যারাজের অবিরাম জল ছাড়া হচ্ছে। তার জেরে ব্যারাজ বোল্ডার সসেজ ক্রেটের নির্মাণের কাজ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে ব্যারাজের অফিস চত্বরের গাইড বাঁধ সংলগ্ন এলাকার একাংশের মাটিও ধসে গিয়েছিল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেখানে পুনরায় মাটি ফেলে ধস মেরামত করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রাজ্য সেচদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল ব্যারাজ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেছে। 
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়ূরাক্ষীর জলস্তর স্বাভাবিক হতেই ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার প্রক্রিয়ায় ইতি টানা হবে। এরপরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ব্যারাজ সংস্কারের কাজের ক্ষেত্রে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তা পরিমাপ করা হবে। পরবর্তীতে রাজ্য সেচদপ্তরের প্রতিনিধি দলের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আগামীতে সংস্কারের কাজে গতি আনা হবে। সেক্ষেত্রে তিলপাড়া ব্যারাজ সংস্কারের কাজ সঠিক কবে শেষ করা সম্ভব হবে, তা অবশ্য এখনই স্পষ্ট নয়। খোদ সেচদপ্তরের আধিকারিকরাও এনিয়ে রীতিমতো অন্ধকারে রয়েছেন।
ওয়াকিবহালমহলের মতে, বছরের শুরুতেই ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শুরু করা হলে বর্ষার মরশুমের আগেই তা শেষ করা সম্ভব হতো। সিউড়ির বাসিন্দা বরুণকুমার দাস বলেন, আমার মনে হয় বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার প্রাক মুহূর্তে এধরনের সংস্কারের কাজ শুরু করা উচিত নয়। সেক্ষেত্রে শীতের মরশুমে ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শুরু করা উচিত ছিল। তাতে কোনও সমস্যা হতো না। আখেরে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী।  সিউড়ির তিলপাড়া ব্যারাজে সংস্কারের কাজ করতে নেমে জল ছাড়ার ফলে ডুবে গিয়েছে একটি জেসিপি মেশিন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ