Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টানা বৃষ্টি, বিপদসীমার কান ঘেঁষে বইছে ভাগীরথীর জল

টানা বৃষ্টির জেরে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে ভাগীরথী। জল বইছে বিপদসীমার কান ঘেঁষে। ইতিমধ্যেই জলের তলায় চলে গিয়েছে কালনাঘাটের একাধিক অস্থায়ী দোকানঘর।

টানা বৃষ্টি, বিপদসীমার কান ঘেঁষে বইছে ভাগীরথীর জল
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: টানা বৃষ্টির জেরে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে ভাগীরথী। জল বইছে বিপদসীমার কান ঘেঁষে। ইতিমধ্যেই জলের তলায় চলে গিয়েছে কালনাঘাটের একাধিক অস্থায়ী দোকানঘর। লাটে উঠেছে ব্যবসা। অন্নসংস্থানে অগত্যা বিকল্প রুজিরুটির সন্ধানে মরিয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

Advertisement

শান্তিপুরের একাধিক ঘাট হয়ে ভাগীরথী পার করে পার্শ্ববর্তী হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় যাওয়া যায়। এরমধ্যে গুপ্তিপাড়া ঘাট, কালনাঘাট অন্যতম প্রধান ‘রুট’। স্বাভাবিকভাবেই রুটি-রুজির সংস্থান করতে কালনাঘাট সংলগ্ন নদীপাড়ে তৈরি হয়েছে ছোটবড় একাধিক অস্থায়ী দোকান। শনিবার সন্ধ্যায় স্বরূপগঞ্জের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮.৩৯ মিটার দিয়ে বইছে নদীর জল। যা বিপদসীমার চেয়ে সামান্য কম। আর কালনাঘাট ভৌগোলিকভাবে নিচু হওয়ায় নদীর জল উঠে ভাসিয়ে দিয়েছে পাড়ের একটা বড় অংশ। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডজন খানেক অস্থায়ী দোকান জলের তলায় চলে গিয়েছে। বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন ব্যবসায়ীরা। রুটিরুজি হারিয়ে কার্যত পথে বসার জোগাড় হয়েছে তামদের। অনেকেই বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে পাড়ি দিচ্ছেন কলকাতার পথে। তাঁদের দাবি, পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে বাধ্য হয়েই খুঁজতে হচ্ছে অন্যকিছু। কারণ ওই দোকানই ছিল তাঁদের একমাত্র সম্বল।
কালনাঘাটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুকুমার মণ্ডল বলেন, নিচু জায়গা। তাই ভাগীরথীর জল বাড়লেই সবকিছু ডুবে যায়। আমার চায়ের দোকান ছিল। তা নদীর জলে ভেসে গিয়েছে। অনেক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমি কলকাতার একটি হোটেলে কাজ ধরেছি। সেখান থেকে কিছু আয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। 
আর এক ব্যবসায়ী বলেন, যেহেতু জায়গা আমাদের নিজস্ব নয় এবং অস্থায়ী দোকান তাই আমরা পাকাপোক্ত কিছু তৈরি করতে পারি না। প্রশাসন যদি উদ্যোগ নিয়ে আমাদের উঁচু জায়গায় বিকল্প রুটি রুজির ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে প্রতিবছর এই জলে দোকান ভেসে যাওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না। বছরে ৮-৯ মাসের বেশি ওখানে ব্যবসা করা যায় না। কিছু সাহায্য পেলে উপকার হবে।
শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, ওই জায়গার বর্তমান পরিস্থিতি কী তা আমি জানি না। বিষয়টি আমি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখব। যেহেতু টানা বৃষ্টি হয়েছে, তাই সর্বত্রই বাড়তি জল ঢুকে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পরবর্তীতে যদি আমাদের কাছে আসেন, আমরা চেষ্টা করব সাধ্যমতো সাহায্য করার। 
 শান্তিপুরের কালনা ঘাট। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ