নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: এবছর বিরামহীন বৃষ্টিপাত চলছে। তবে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে একটানা প্রায় ১২ দিন অপর্যাপ্ত বৃষ্টির দরুন খরিফ মরশুমে জলের জোগান নিয়ে কৃষকরা খানিকটা চিন্তায় পড়েছিলেন। তবে, ফের বৃষ্টি শুরু হতেই স্বস্তিতে তাঁরা। আশার আলো দেখতে শুরু করেছে জেলা কৃষিদপ্তরও। দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক থাকলে খরিফ মরশুমে ধান চাষ এবছর যথেষ্টই লাভজনক হবে। ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খরচের বহর কমায় লাভের অঙ্ক বাড়তে পারে। জেলা কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এবছর শুরু থেকে যথেষ্ট বৃষ্টি হয়েছে। তার জেরে সেচের প্রয়োজন হয়নি। মাঝে ক’দিন বৃষ্টি কম হওয়ায় কৃষিজমির জল শুকিয়ে আসছিল। তবে ফের বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে। তাঁর আশা, এবছর ধানের ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে যাবে।
জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনে গড়ে ১০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টি হলে তা চাষের ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত। বিগত প্রায় দশদিন জেলায় অপর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেচের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে শুরু করেছিল। জেলার নানা প্রান্তের কৃষকরা সেচের কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন। তবে শেষ অবধি তার প্রয়োজন হয়নি। কৃষি আধিকারিকদের কথায়, এবছর জেলায় আনুমানিক ২ লক্ষ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে খরিফ মরশুমের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। যদিও এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে জেলায় বর্ষাকালীন ধান হচ্ছে। আধিকারিকদের দাবি, এবছর জেলায় ৩ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে খরিফ মরশুমের ধান চাষ হচ্ছে।
এবার বর্ষায় বৃষ্টি বেশি হওয়ায় নানা প্রান্তের কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। তার জেরে সব্জি চাষে যথেষ্ট প্রভাব পড়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ শতাংশের বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে। যদিও ধান চাষের ক্ষেত্রে তা উলটো প্রভাব ফেলেছে। কৃষি আধিকারিকদের কথায়, এখনও পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির জেরে জেলায় ধান চাষে তেমন ক্ষতির খবর নেই। যদিও প্রতিনিয়ত নজরদারি চলছে। সেইসঙ্গে কৃষকদের যাতে ক্ষতির মুখে পড়তে না হয় সে জন্য সকলকে বিমার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। রাজনগরের কৃষক অন্তত মান্না বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ধান চাষ করেছি। আমাদের এলাকায় সেভাবে সেচের বন্দোবস্ত নেই। পুকুরের ভরসায় থাকতে হয়। এই পরিস্থিতিতে এবছর যেরকম বৃষ্টি হচ্ছে তাতে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। আশা করছি, এবছর ফলন ভালো হবে। -নিজস্ব চিত্র