Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুন মালিয়ার উদ্যোগে প্রায় ১৫০ কোটি ব্যয়ে চার লেন বিশিষ্ট দু’টি সেতুর নির্মাণ শুরু শীঘ্রই

ভোটের সময়ে কথা দিলেও পরে তা বেমালুম ভুলে যান রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা। এমন উদাহরণের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু ভোটের সময়ে কথা দিয়ে তা রাখলেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া।

জুন মালিয়ার উদ্যোগে প্রায় ১৫০ কোটি ব্যয়ে চার লেন বিশিষ্ট দু’টি সেতুর নির্মাণ শুরু শীঘ্রই
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: ভোটের সময়ে কথা দিলেও পরে তা বেমালুম ভুলে যান রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা। এমন উদাহরণের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু ভোটের সময়ে কথা দিয়ে তা রাখলেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া। তিনি যে কথা রাখতে জানেন, তা আবারও প্রমাণিত হল। কারণ, তাঁর উদ্যোগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় দু›টি নতুন চার লেন বিশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সেই কাজ শুরু শুধুই সময়ের অপেক্ষা। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই এই সেতু নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে। সাংসদ জুন মালিয়ার পর্যবেক্ষণে সেতু তৈরির কাজ দ্রুত শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের সড়ক বিভাগের উদ্যোগে এই সেতু নির্মাণের জন্য খরচ হবে ১৫৮.২৫ কোটি টাকা। জানা গিয়েছে, এই দু’টি সেতু নির্মাণ হলে মালবাহী ট্রাক, বড় লরির যাতায়াতে সুবিধা হবে। আগে প্রায় ৭০ কিলোমিটার ঘুরপথে যেত পণ্যবাহী গাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই দু›টি সেতু তৈরি হলে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এতদিন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হতো। সেতু দু›টি দুর্বল হয়ে গিয়েছে। সাংসদ জুন মালিয়া বলেন, মেদিনীপুরের সাংসদ হিসেবে গর্বিত। নির্বাচনের সময়ে সেতু নিয়ে সমস্যার কথা সাধারণ মানুষ জানিয়েছিলেন। সেই সময়ই ঠিক করেছিলাম, দ্রুত সেতু তৈরি করার চেষ্টা করব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই এই সেতু তৈরি হবে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে সব সময় সহযোগিতা পেয়েছি। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, মানুষকে সঠিক পরিষেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। সাংসদ জুন মালিয়া সহযোগিতা করায়, দু’টি সেতু তৈরি হবে। গোটা প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। এনিয়ে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার চাইছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তা, সেতু তৈরি করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা। সেই লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন একাধিক প্রকল্পের রূপায়ণ করেছে। শুধু পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় এক হাজারের বেশি রাস্তার সংস্কার হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় সেতু তৈরি হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হয়। তবে কয়েক বছর ধরেই জেলার দু’টি সেতু সংস্কারের দাবি উঠতে শুরু করে। জানা গিয়েছে, সাংসদ জুন মালিয়া ও প্রশাসনের উদ্যোগে কংসাবতী নদীর উপর ১.৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মোহনপুর সেতু তৈরির কাজ শুরু হবে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ১৯৭২ সালে মেদিনীপুর ও খড়্গপুরের সংযোগস্থলে কংসাবতী নদীর উপর মোহনপুর সেতু তৈরি হয়। তৎকালীন সময়ে রাজ্যপাল এই সেতুটির উদ্বোধন করেন বলেও শোনা যায়। এই সেতুটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক ব্লকের সঙ্গে কলকাতার ও ভিন রাজ্যের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এই সেতু কোনও কারণে বন্ধ থাকলে মেদিনীপুর-খড়্গপুরের মধ্যেই সড়কপথে দূরত্ব অন্তত ২০ কিলোমিটার বেড়ে যায়। 
২০২৩ সালের পর এই সেতুর উপর দিয়ে ২৫ টন ওজনের যানবাহন চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সেতুটি দুর্বল সেতু হিসেবেই চিহ্নিত রয়েছে। পরে ওজনের পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধি করলেও ভারী যানবাহন যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। জানা গিয়েছে, এই সেতু দিয়ে যেতে না পারলে ৭০ কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হয় পণ্যবাহী গাড়িকে। তবে অবশেষে এই সেতুর তৈরির কথা শুনে খুশি ব্যবসায়ীরাও। 
অপরদিকে, ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর গড়বেতায় শিলাবতী নদীর উপর ০.৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু তৈরি হবে। ধাদিকা এলাকায় সেতুটি তৈরি হলে সড়কপথে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। ২০২০-›২১ সাল থেকে এই সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে থমকে ছিল প্রক্রিয়া। পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট ট্রাক অপারেটরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ মণ্ডল বলেন, এই দুই সেতু তৈরি হলে খুবই উপকার হবে। খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচবে। বর্তমানে প্রতিটি ট্রিপে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ