রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: ভোটের সময়ে কথা দিলেও পরে তা বেমালুম ভুলে যান রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা। এমন উদাহরণের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু ভোটের সময়ে কথা দিয়ে তা রাখলেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া। তিনি যে কথা রাখতে জানেন, তা আবারও প্রমাণিত হল। কারণ, তাঁর উদ্যোগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় দু›টি নতুন চার লেন বিশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সেই কাজ শুরু শুধুই সময়ের অপেক্ষা। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই এই সেতু নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে। সাংসদ জুন মালিয়ার পর্যবেক্ষণে সেতু তৈরির কাজ দ্রুত শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের সড়ক বিভাগের উদ্যোগে এই সেতু নির্মাণের জন্য খরচ হবে ১৫৮.২৫ কোটি টাকা। জানা গিয়েছে, এই দু’টি সেতু নির্মাণ হলে মালবাহী ট্রাক, বড় লরির যাতায়াতে সুবিধা হবে। আগে প্রায় ৭০ কিলোমিটার ঘুরপথে যেত পণ্যবাহী গাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই দু›টি সেতু তৈরি হলে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এতদিন ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হতো। সেতু দু›টি দুর্বল হয়ে গিয়েছে। সাংসদ জুন মালিয়া বলেন, মেদিনীপুরের সাংসদ হিসেবে গর্বিত। নির্বাচনের সময়ে সেতু নিয়ে সমস্যার কথা সাধারণ মানুষ জানিয়েছিলেন। সেই সময়ই ঠিক করেছিলাম, দ্রুত সেতু তৈরি করার চেষ্টা করব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই এই সেতু তৈরি হবে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে সব সময় সহযোগিতা পেয়েছি। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, মানুষকে সঠিক পরিষেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। সাংসদ জুন মালিয়া সহযোগিতা করায়, দু’টি সেতু তৈরি হবে। গোটা প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। এনিয়ে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার চাইছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তা, সেতু তৈরি করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা। সেই লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন একাধিক প্রকল্পের রূপায়ণ করেছে। শুধু পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় এক হাজারের বেশি রাস্তার সংস্কার হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় সেতু তৈরি হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হয়। তবে কয়েক বছর ধরেই জেলার দু’টি সেতু সংস্কারের দাবি উঠতে শুরু করে। জানা গিয়েছে, সাংসদ জুন মালিয়া ও প্রশাসনের উদ্যোগে কংসাবতী নদীর উপর ১.৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মোহনপুর সেতু তৈরির কাজ শুরু হবে।



