Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দামোদরের বুকে জোড়া সেতু, শীঘ্রই শুরু কাজ

দামোদরের উপর একটি নয়, তৈরি হবে দু’টি সেতু। দু’টি সেতু তৈরির ছাড়পত্র পাওয়া গিয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

দামোদরের বুকে জোড়া সেতু, শীঘ্রই শুরু কাজ
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দামোদরের উপর একটি নয়, তৈরি হবে দু’টি সেতু। দু’টি সেতু তৈরির ছাড়পত্র পাওয়া গিয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। একটি তৈরি করবে রাজ্য সরকার। অন্যটি কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করবে। দু’টি সেতু তৈরির কাজ সম্পন্ন হলে পূর্ব বর্ধমানের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আসবে বলে জেলার বাসিন্দাদের মত। একসঙ্গে দু’টি সেতু তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জেলায় খুশির হাওয়া বইছে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব঩ন্দ্যোপাধ্যায় শিল্প সেতুর শিলান্যাস করবেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অনেক আগেই অর্থ বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। অন্য সেতুটি তৈরি হবে জুজুটিতে। কেন্দ্রীয় সরকার খড়্গপুর-মোরগ্রাম জাতীয় সড়ক তৈরি করছে। জুজুটিতে কোন এলাকায় সেতু তৈরি হবে, তা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। মাঝখানে জমি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। জুজুটিতেই বর্ধমান পুরসভার জলপ্রকল্প তৈরি হয়েছে। সেই এলাকায় সেতু তৈরি হলে জলপ্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে একসময় অভিযোগ করা হয়েছিল। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, সেই সমস্যা মিটে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার কিছুটা দূরে সেতু তৈরি করবে। সেটা হলে জলপ্রকল্পের তেমন সমস্যা হবে না। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলার আটটি ব্লকের উপর দিয়ে জাতীয় সড়ক যাবে। যে মৌজাগুলি দিয়ে রাস্তা যাবে, সেগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কয়েকটি এলাকায় জমিদাতাদের কিছু আপত্তি ছিল। তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। জমি নিয়ে সমস্যা হবে না। জমিদাতারা ন্যায্যমূল্য পেয়ে যাবেন।
জেলার বাসিন্দারা বলেন, কৃষক সেতুর বিকল্প কিছু করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি আসছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর সেতু তৈরির কথা ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। রায়নার বিধায়ক শম্পা ধাড়া বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কথা দিলে তা রাখেন। কিছুদিনের মধ্যেই শিল্প সেতুর কাজ শুরু হয়ে যাবে। দক্ষিণ দামোদরের বাসিন্দাদের স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কালনা-শান্তিপুর সেতু তৈরির পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত করা হবে। সেতুর জন্য অধিকাংশ জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। কয়েকজন জমিদাতা অনড় রয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, খুব তাড়াতাড়ি সমস্যা মিটে যাবে। বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তিনটি সেতু তৈরির কাজ শেষ হলে শুধু পূর্ব বধর্মান নয়, দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে পৌঁছতে অনেক কম সময় লাগবে। নতুন জাতীয় সড়ক তৈরির কাজেরও তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। এই কাজের জন্য বেশকিছু গাছ এবং ইলেকট্রিক পোল সরাতে হবে। তা নিয়েও বৈঠক হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ