Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চলছে গলিগ্রাম-অভিরামপুর রাস্তার নির্মাণ, ধুলোয় নাজেহাল পথচারীরা

রাস্তার ধুলোয় নাভিশ্বাস উঠছে গলসি-১ ব্লকের গলিগ্রাম, বনসুজাপুর সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। গলিগ্রাম থেকে অভিরামপুর যাওয়ার রাস্তা নতুনভাবে নির্মিত হচ্ছে।

চলছে গলিগ্রাম-অভিরামপুর রাস্তার  নির্মাণ, ধুলোয় নাজেহাল পথচারীরা
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: রাস্তার ধুলোয় নাভিশ্বাস উঠছে গলসি-১ ব্লকের গলিগ্রাম, বনসুজাপুর সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। গলিগ্রাম থেকে অভিরামপুর যাওয়ার রাস্তা নতুনভাবে নির্মিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ কাজের দায়িত্বে রয়েছে পিডব্লুউডি। কিন্তু গাড়ি গেলেই রাস্তায় ব্যাপক ধুলো উড়ছে। তখন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শ্বাস নিতেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে গলসি-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায় বাসিন্দাদের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ধীর গতিতে কাজ হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যেই যথাস্থানে জানিয়েছি। 

Advertisement


গলসি-১ ব্লকের গলিগ্রাম থেকে অভিরামপুর যাওয়ার রাস্তাটি কুদরুকি, বনসুজাপুর, অনুরাগপুর সহ প্রায় ২৫টি গ্রামের বাসিন্দারা ব্যবহার করেন। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক যেতে গ্রামের মানুষদের কাছে এটিই প্রধান রাস্তা। মানকর বা গলসি কলেজে আসার জন্য বহু পড়ুয়া এই রাস্তাটি ব্যবহার করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার করা হচ্ছে। গাড়ি গেলেই চারিদিক ধুলোতে ভরে যাচ্ছে। রাস্তা সংস্কারের প্রক্রিয়াও অত্যন্ত ধীরগতিতে হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী থেকে পড়ুয়া সকলকেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাস্তায় নিয়ম করে জল না দেওয়ার জন্যই ধুলোর তাণ্ডব দেখা যাচ্ছে। পুরো রাস্তাজুড়ে জল দিলে ধুলোর সমস্যা থাকবে না। এই রাস্তায় বাইক নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাস্তায় যেভাবে ধুলো উড়ছে, তাতে বাইক বা সাইকেল নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। চোখ, মুখ ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে। বালি চোখে পড়ছে। যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমিও দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলাম। বরাত জোরে রক্ষা পেয়েছি। সাইকেল আরোহী সেখ মকবুল বলেন, রাস্তায় ধুলের জন্য সাইকেলে যেতে ভয় লাগে। বড় গাড়ি গেলে ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায়। তখন সামনে থেকে কী আসছে তা দেখা যায় না। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই রাস্তায় কয়েকশো বাইক ও চারচাকার গাড়ি চলে। তাছাড়া নিয়মিত বাসও চলে। রাস্তার উপর রয়েছে একাধিক রাইস মিল। সেই মিলগুলির গাড়িও নিয়মিত চলে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি এভাবে কেন ফেলে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পথচারী থেকে নিত্যযাত্রীরা। বাসযাত্রী কেশব কোণার বলেন, যেভাবে রাস্তায় ধুলো উড়ছে, তাতে বাসে বসে থাকাও সমস্যার হয়ে যাচ্ছে। জানলা দিয়ে প্রচুর ধুলো ঢুকছে। বাসের ভিতরে শ্বাসকষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যাত্রীদের মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেতা অরুণ ঘোষ বলেন, রাস্তার কাজে গতি নেই। রাস্তার হাল খারাপ। রাস্তার মধ্যেই বালি, পাথর পড়ে রয়েছে। মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। কিন্তু প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই।  রাস্তার ধুলোয় নাভিশ্বাস গলসির গলিগ্রাম, বনসুজাপুর এলাকার বাসিন্দাদের। -নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ