নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: দুর্গাপুজোর আগে থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন টেংরিডাঙার বাসিন্দারা। গয়েশপুর পঞ্চায়েতের শান্তিপুর ব্লকের গঙ্গাপাড়ের এই এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে নদীভাঙন বেশি হচ্ছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার ওই ভাঙন কবলিত এলাকায় শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী এবং সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা যান। তাঁদের উপস্থিতিতে শুরু হল অস্থায়ীভাবে পাড় বাঁধানোর কাজ। বরাদ্দ হয়েছে প্রায়১১ লক্ষ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টেংরিডাঙার কাছে গঙ্গার পাড়ে ধস নামায় বহু বাড়ি ও কৃষিজমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। এখনই কাজ শুরু না করলে শীতের মরশুমে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের। তাই আপাতত বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধায়ক এবং সেচ দপ্তরের কর্তাদের যৌথ পরিদর্শনের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী রূপ পায়।
শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোরবাবু বলেন, পুজোর আগেই বিষয়টি আমার নজরে এসেছিল। কিন্তু, দীর্ঘদিন সরকারি ছুটির কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ছুটি শেষ হতেই সেচদপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আপাতত ১১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাকাপাকি পাড় বাঁধানোর প্রকল্প তৈরির প্রস্তাব দিয়েছি। দ্রুত পরিকল্পনা পাশ হলে কয়েক কোটি টাকা খরচে স্থায়ী বাঁধ তৈরি হবে। মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বলেছি। তৃণমূল সরকার মানুষের পাশেই আছে।
উল্লেখ্য, শান্তিপুর অঞ্চল বহুদিন ধরেই নদীভাঙন প্রবণ। প্রতি বছরই গঙ্গার তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ভাঙনের কবলে পড়ে। বহু মানুষ তাঁদের ভিটেমাটি হারান। সম্প্রতি টেংরি ডাঙায় নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। এদিন ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরাও। তাঁরা জানান, অবস্থার গুরুত্ব বিচার করেই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অস্থায়ী কাজ করে যেন প্রশাসন হাত গুটিয়ে না নেয়। ভাঙন ঠেকাতে পাকাপাকি ভাবে নদীর পাড় বাঁধানোর কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। না হলে হয়তো ভেসে যাবে অনেকের বাড়ি, চাষের জমি অথবা একমাত্র সম্বলটুকু। • নিজস্ব চিত্র



