Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ঘাটালে ২ ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরি

পাঁচ বছরেও ঘাটাল শহরে বৈদ্যুতিক শবদাহ চুল্লি  তৈরির কাজ শেষ হল না। ঘাটাল শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ওই চুল্লি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি ঘাটালে ২ ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরি
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: পাঁচ বছরেও ঘাটাল শহরে বৈদ্যুতিক শবদাহ চুল্লি  তৈরির কাজ শেষ হল না। ঘাটাল শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ওই চুল্লি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। যে কাজ এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল তা অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। কবেসম্পূর্ণ হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা বলেন, বৈদ্যুতিক শ্মশান তৈরির কাজটি পূর্ত দপ্তর করছে। সামান্য একটি কাজের জন্য শবদাহ চুল্লিটি তৈরির কাজ শেষ করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বারবার আমি জেলাশাসককে জানিয়েছি। জেলাশাসক আশ্বাস দিয়েছেন কিছুদিনের মধ্যেই চুল্লির কাজ শেষ করে দেওয়া হবে।  বৈদ্যুতিক শ্মশান তৈরির কাজ দেখভাল করছে পূর্ত দপ্তরের চন্দ্রকোণা রোডের ডিগ্রি সাবডিভিশন। ওই সাবডিভিশনের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, বৈদ্যুতিক চুল্লির জন্য প্রথমে যে টাকা বরাদ্দ হয়েছিল সেই টাকাতে কাজটি সম্পূর্ণ হয়নি। তাই কাজটি শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় বাকি টাকা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সেটা অনুমোদন হয়ে এলেই বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।ঘাটাল মহকুমায় বৈদ্যুতিক চুল্লি নেই। তাই কাঠের চুল্লিই ভরসা। দাসপুর-২ ব্লকের দুবরাজপুরের মতো হাতে গোনা কয়েকটি গ্রামে কয়লার চুল্লি রয়েছে।  তাই এখনও বেশিরভাগ জায়গাতেই কাঠ দিয়ে শবদাহ করা হয়। সরকারিভাবে প্রত্যেক গ্রামে এখনও শ্মশানে চুল্লি এবং শেড তৈরি করে দেওয়া হয়নি। প্রিয়জন মারা গেলে বর্ষার সময় মৃতের পরিবারগুলিকে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি বিকাশ কর জানালেন, বর্ষার সময় একটু বৃষ্টি হলেই ঘাটাল ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়। তখন মৃতদেহ দাহ করতে কী যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তা ভাষায় বর্ণনা করে বলা যাবে না। একই সমস্যা হয় ঘাটাল ও খড়ার পুরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও। ওই ওয়ার্ডগুলিও শিলাবতী নদীর জলস্ফীতিতে প্লাবিত হয়ে যায়।সেজন্যই দীর্ঘদিন থেকে ঘাটাল মহকুমা শহরে একটি বৈদ্যুতিক শবদাহ চুল্লি করার দাবি  ছিল। সেই দাবি অনুযায়ী  ২০২১ সালে ঘাটাল শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ওই বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির কাজ শুরু হয়। বাজেট ছিল এক কোটি ৯০লক্ষ টাকা। এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকা টেন্ডারে চুল্লিটি তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনও সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।যেখানে চুল্লিটি তৈরি করা হচ্ছে সেই এলাকাটি প্রত্যেক বছর শিলাবতীর জলস্ফীতির কারণে প্লাবিত হয়ে যায়। ২০২১ সালে বন্যার সময় দেখা যায় পূর্ত দপ্তর মাটি থেকে যে উঁচু থেকে চুল্লির তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিল সেই স্তর থেকে নির্মাণ করলে চুল্লির-ঘরটি অনেকটি ডুবে যাবে। সেজন্যই পিলার তুলে একতলা বাড়ির উচ্চতার সমান নীচের দিকটা ফাঁকা রেখে তারপর মূল চুল্লিটি তৈরি করা হয়। অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বলেন, সেজন্যই ওই বাজেটে চুল্লিটি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করা যায়নি। বাকি কাজ শেষ করার জন্য সম্প্রতি প্রায় ৮২ লক্ষটাকা বরাদ্দ করার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।  সেই টাকা মঞ্জুর হলেই  চুল্লির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া বলেন, ঘাটালে বিদ্যুতের শবদাহ চুল্লিটি তৈরি হলে বর্ষার সময় পরিজনদের দেহদাহ করতে সমস্যায় পড়তে হবে না। বন্যা এলাকার মানুষজনও উপকৃত হবেন। বন্যার সময় ঘাটাল মহকুমা ছাড়াও হুগলি জেলার একাংশের শব ঘাটালে দাহ করার সম্ভাবনা রয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ