নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ থেকে স্টাফ সিলেকশন পরীক্ষার ‘প্রশ্নপত্র’র দাম মাত্র ১০ হাজার টাকা! সারা রাজ্যে এমন টোপ দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়েছে প্রতারক চক্র। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের দুই ব্যক্তি এই চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। তাদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে আউশগ্রামের জঙ্গলে কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির জন্য প্রতারকরা ক্যাম্প তৈরি করেছিল। পুলিশ ওই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের জেরা করে তদন্তকারীরা এমনই তথ্য জানতে পেরেছেন। এক আধিকারিক বলেন, প্রতারক চক্রটি বহুদিন ধরে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড থেকে ইনপুট না পাওয়া গেলে তারা আগামী দিনেও এই কারবার চালিয়ে যেত। চক্রের প্রত্যেকের নাম জানা গিয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতারক চক্রটি নিজের ইচ্ছেমতো প্রশ্নপত্র ছাপাত। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিল থাকত না। চক্রটি কোনও জেলায় নির্দিষ্টভাবে এই কারবার চালায় না। তারা প্রতিটি পরীক্ষার জন্য আলাদা আলাদা জায়গায় ক্যাম্প করে। তাদের দেওয়া প্রশ্নপত্র না মিললেও প্রতারিত যুবক-যুবতীদের তখন আর কিছু করার থাকে না। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রতারকদের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। নয়তো তারা সিমকার্ড বদলে ফেলে। প্রতিটি জেলায় চক্রের এজেন্ট ছড়িয়ে রয়েছে। তারাই মূলত ‘ক্রেতা’ জোগাড় করে। বিনিময়ে কমিশন পায়। টাকা দিতে না পারলে প্রতারকরা ‘ক্রেতা’দের মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিড কার্ড বা মাকর্শিট নিজেদের কব্জায় রেখে দেয়। টাকা না দিলে তারা সেসব ফেরত দেয় না। প্রতারিত হওয়ার পরও যুবক-যুবতীরা থানায় গিয়ে অভিযোগ করার সাহস দেখান না।
আরএক পুলিশ আধিকারিক বলেন, কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার দিন প্রতারকরা সব থেকে বেশি সক্রিয় ছিল। তারা বিভিন্ন জেলাতেই কার্যত ‘অফিস’ খুলে প্রতারণা করে। পুলিশ সব জায়গাতেই ব্যাপক ধরপাকড় করে। প্রতারকরা কখনই আসল প্রশ্নপত্র দিতে পারে না। বিভিন্ন জেলায় নিজেদের মর্জিমতো নকল প্রশ্নপত্র তৈরি করে। কখনও কখনও কোনও প্রশ্ন মিলে যায়। কিন্তু হুবহু প্রশ্নপত্র তারা তৈরি করতে পারে না। আউশগ্রামে ক্যাম্প তৈরির পিছনে সেখানকার এক তৃণমূল নেতার অনুগামীর অবদান ছিল। সে-ই মূলত জলের ট্যাঙ্ক বা ডেকরেটরের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। পুলিশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। ওইদিন থেকেই সে ফেরার রয়েছে। ওই দিনও প্রতারকরা বিভিন্ন জেলার যুবকদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়েছে। পুরুলিয়া, নদীয়া সহ বিভিন্ন জেলার যুবকরা সেদিন আউশগ্রামে জমায়েত হয়েছিলেন। প্রতারকরাও সেখানে হাজির ছিল। পুলিশ অভিযান চালাতেই তাদের কয়েকজন চম্পট দেয়। সাতজন ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার হয়। তাদের কাছ থেকেই পুলিশ বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের দুই মাস্টারমাইন্ডের নাম জানতে পেরেছে।