সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের দুর্গে বড়সড় ধস নামাল জাতীয় কংগ্রেস। নলহাটি বিধানসভার অন্তর্গত কুশমোড়ের ধানগড়া করমজি হাই মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির নির্বাচনে প্রতিপক্ষ সমস্ত রাজনৈতিক দলকে ধুয়েমুছে সাফ করে বিপুল জয় হাসিল করল হাত শিবির। ৬ আসনের প্রতিটিতেই জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। চরম নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণের পর দীর্ঘ গণনা শেষে রবিবার রাতে ফলাফল ঘোষণা হয়। কুশমোড় গ্রাম পঞ্চায়েত দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বভাবতই মাদ্রাসা নির্বাচনের এই ফলাফলে নলহাটিতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা এবং কাদা ছোড়াছুড়ি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক পারদ আগে থেকেই চড়ছিল। তৃণমূল, সিপিএম, বিজেপি এবং কংগ্রেস, এই প্রধান চার রাজনৈতিক দল মিলিয়ে মোট ১৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র পেশ করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, অন্যদের পেছনে ফেলে ৬ আসনেই বিরাট ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থীরা।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এই অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে কড়া ভাষায় প্রতিপক্ষ দলগুলিকে বিঁধেছেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতা আশিক ইকবাল। তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, সিপিএম ও তৃণমূল ভেতরে ভেতরে আঁতাত করেছিল। এখানে সিপিএম এবং তৃণমূল জোট বেঁধে ৬ আসনেই যৌথ প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল। অন্যদিকে বিজেপি ও লোক জনশক্তি পার্টি জোট বেঁধে লড়েছিল দু’টি আসনে। কিন্তু মানুষ এই অশুভ জোট এবং তোষণের রাজনীতিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে একমাত্র কংগ্রেসের ওপরই আস্থা প্রকাশ করেছেন। জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাজ্যে তৃণমূলের বর্তমান ডামাডোল, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হয়ে একমাত্র বিকল্প হিসেবে জাতীয় কংগ্রেসকেই বেছে নিচ্ছেন। এই ফল তারই স্পষ্ট প্রমাণ।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের তোলা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন নলহাটির তৃণমূল বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং। তিনি জানান, তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং কংগ্রেসই এখানে নিজেদের জয় সুনিশ্চিত করতে গোপনে বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করেছিল।
তৃণমূল বিধায়কের এই বক্তব্যকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন এলাকার বিজেপি নেতা বন্যেশ্বর সাহু। তিনি বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির জোটের প্রশ্নই ওঠে না। আমরা একটি আসনে লড়েছিলাম ও লোক জনশক্তি পার্টি অন্য একটি আসনে লড়েছিল। সংখ্যালঘু প্রধান এলাকা হওয়া সত্ত্বেও আমাদের প্রার্থী ৫৬ ভোট পেয়েছেন, যা আমাদের জন্য বিরাট সাফল্য। বিধায়ক এই নির্বাচন ঘিরে ক’দিন ঘুরে কী করলেন, সেটা এলাকার মানুষ দেখেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচন। তার ঠিক মুখেই নলহাটির হাই মাদ্রাসা নির্বাচনের এই জয় কংগ্রেসের নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, যা আগামীদিনে এলাকার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।