


নয়াদিল্লি: বকেয়া আয়কর মামলায় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তাদের করছাড়ের আর্জি খারিজ করে দিল ইনকাম ট্যাক্স অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল। এক্ষেত্রে আয়কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তারা বলেছে, ওই অর্থবর্ষে দলীয় তহবিলে প্রাপ্ত অনুদানের ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে আয়কর চোকাতে হবে। ওই অর্থবর্ষে ১৯৯ কোটি টাকা অনুদানের আয়কর মেটানোর জন্য কংগ্রেসের কাছে নোটিস এসেছিল। দল এর বিরোধিতা করে। তারা যুক্তি দেয়, ওই ১৯৯ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে তা করমুক্ত। যদিও ট্রাইব্যুনাল বলেছে, এক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন নির্ধারিত সময়ে দাখিল হয়নি। সেইসঙ্গে নগদ দানের সর্বোচ্চ সীমাও লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই যুক্তি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনাল কংগ্রেসের দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
ওই অর্থবর্ষে রিটার্ন জমার সময়সীমা ছিল ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু কংগ্রেস রিটার্ন জমা দিয়েছিল এর প্রায় একমাস পর ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। রিটার্নে শূন্য আয় দেখানো হয়। ১৯৯ কোটি টাকা অনুদানের জন্য করছাড়ও দাবি করে কংগ্রেস। যদিও সব তথ্য খতিয়ে দেখে আয়কর আধিকারিকরা জানতে পারেন, মোট অনুদানের মধ্যে ১৪.৪৯ লক্ষ টাকা নগদে নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ২ হাজার টাকার বেশি ব্যক্তিপিছু নগদ অনুদান নেওয়া যায় না। এর বেশি অর্থের ক্ষেত্রে চেক বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অনুদান নিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই সীমা ছাড়িয়ে নগদ অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছিল। এজন্য পুরো ১৯৯ কোটি টাকা অনুদানের উপরই আয়কর ধার্য করা হয়। কংগ্রেসের আয়কর ছাড়ের দাবি ২০২১ সালে খারিজ করে দেয় আয়কর বিভাগ। ২০২৩ সালের মার্চে কমিশনার অব ইনকাম ট্যাক্স (অ্যাপিলস) সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর কংগ্রেস ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি মিলল না।