


তিরুবনন্তপুরম: তিন গোষ্ঠীর মধ্যে কালি লেপালেপি, পোস্টার-যুদ্ধের পর্ব পেরিয়ে সবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। এখনও হয়নি শপথগ্রহণ। এমনকি কংগ্রেসের এই কোন্দলের মুষলপর্বে নিশানা বানানো হয়েছে গান্ধী পরিবারকেও। পছন্দের মুখ্যমন্ত্রী পেতে একটি অংশের কর্মী-সমর্থকরা হুমকি পোস্টারে লিখেছিলেন, ‘ওয়েনাড় হবে পরবর্তী আমেথি।’ লক্ষ্য ছিল রাহুল গান্ধীকে তাঁর পারিবারিক দুর্গে হারের ‘স্মৃতি’ মনে করিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ, তাদের কথা না মানলে হারবেন প্রিয়াঙ্কা। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে ভি ডি সতীশনকে বেছে নেওয়ার পরও কংগ্রেসের ‘কেরল স্টোরি’ সেই তিমিরেই। সোমবারের শপথগ্রহণের আগে এবার বিড়ম্বনা বাড়াল শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)। কংগ্রেসের অধিকাংশ বিধায়ক রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ কে সি বেণুগোপালের পক্ষে থাকলেও লিগ শুরু থেকেই সতীশনের দিকে ছিল। কংগ্রেস হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত সতীশনকেই বেছে নেওয়ায় উচ্ছ্বসিত আইইউএমএল। ইদুক্কি জেলায় লিগের সেই উদযাপন শোভাযাত্রায় বিতর্কিত স্লোগান উঠেছে বলে অভিযোগ। লিগের কর্মী-সমর্থকদের বলতে শোনা গিয়েছে, ‘কেরল ভূমি শাসন করে লিগ, লিগই বানায় আইন।’ শুধু তাই নয়, এই মিছিল থেকেই কেরলের প্রভাবশালী নায়ার সার্ভিস সোসাইটির প্রধান সুকুমারন নায়ার ও শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালন যোগামের সাধারণ সম্পাদক ভেলাপল্লি নাতেসনের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। নির্বাচনি প্রচার চলাকালীন নাতেসন কড়া ভাষায় কথা বলেছিলেন লিগের বিরুদ্ধে।
কেরলে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউডিএফ এবার বিশাল জয় পেয়েছে। ১৪০টি আসনের মধ্যে ২২টিতে জিতেছে জোটের মেজ শরিক লিগ। সিপিএম এবং বিজেপি বারবার অভিযোগ করছে, কেরলে লিগের অঙ্গুলিহেলনে চলছে কংগ্রেস। নিজেদের এজেন্ডা পূরণে তারা হাত শিবিরকে কাজে লাগাচ্ছে। ঘটনাচক্রে, কংগ্রেস হাইকমান্ড মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই প্রকাশ্যে সতীশনের হয়ে সওয়াল করতে শুরু করেছিল লিগ। বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরের অভিযোগ, মুসলিম লিগ ও জামাত-ই-ইসলামির চাপেই সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করতে বাধ্য হয়েছে কংগ্রেস। আগামী পাঁচ বছর বকলমে তারাই সরকার চালাবে। এরই মধ্যে ইদুক্কি জেলার শোভাযাত্রা থেকে যেভাবে ‘কেরল ভূমি শাসন করে লিগ, লিগই বানায় আইন’ স্লোগান উঠল, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।