Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬

‘অপারেশন রেজপিল’: দেশে প্রথম ধরা পড়ল ‘জেহাদি ড্রাগ’, বাজেয়াপ্ত ১৮২ কোটি টাকার ক্যাপটাগন

ভারতকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ড্রাগ পাঠানো হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশে। নেপথ্যে জড়িত আন্তর্জাতিক ড্রাগ চক্র।

‘অপারেশন রেজপিল’: দেশে প্রথম ধরা পড়ল ‘জেহাদি ড্রাগ’, বাজেয়াপ্ত ১৮২ কোটি টাকার ক্যাপটাগন
  • ১৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।  নিষিদ্ধ ড্রাগ পাঠানো হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশে। নেপথ্যে জড়িত আন্তর্জাতিক ড্রাগ চক্র। যার একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় ভারতে। বিদেশি গুপ্তচর সংস্থার পাঠানো এই তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির নেবু সরাই এলাকায় একটি বাড়ি চিহ্নিত করা হয়। ১১ মে সেখানে হানা দিয়ে পাওয়া যায় ৩২ কেজি ক্যাপটাগন ট্যাবলেট। এই ছিল সূত্রপাত। আর এই একটি অভিযানই ভারতের ড্রাগ সিন্ডিকেটের পর্দা খুলে দিয়েছে। বিস্ময়কর তথ্য উন্মোচিত হচ্ছে। দিল্লি, মুম্বই, গুজরাত সর্বত্র জেহাদি ড্রাগের রমরমা চলছে। এই বিশেষ ড্রাগের নাম আন্তর্জাতিক বাজারে ‘জেহাদি ড্রাগ’। কারণ, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আইসিস এই ড্রাগের ব্যবসাও করে এবং নিজের জঙ্গিদের প্রদানও করে। উদ্দেশ্য, যাতে কেউ আইসিস ছেড়ে যেতে না পারে। ভারতে যে এই কুখ্যাত জেহাদি ড্রাগের সিন্ডিকেট আছে, তা নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর জানাই ছিল না। কিন্তু দিল্লির ওই অভিযানের পর একের পর এক অপারেশন চালিয়ে সব মিলিয়ে ১৮২ কোটি টাকার ২২৭ কেজি জেহাদি ড্রাগ উদ্ধার হয়েছে। দিল্লিতে ড্রাগ লুকিয়ে রাখা হয়েছে রুটি কাটার মেশিনের মধ্যে। সেই ড্রাগ জেড্ডায় পাঠানোর কথা ছিল। গোটা সিন্ডিকেটের পান্ডা এক সিরিয়ার নাগরিক। ২ বছর আগে ভারতে এসে ভিসা শেষ হলেও আর ফেরেনি। দিল্লিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত। 

Advertisement

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ১৪ মে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর সংলগ্ন কন্টেনার ফেসিলিটেশন স্টেশনের একটি কন্টেনার থেকে প্রায় ১৯৬.২ কেজি ক্যাপটাগন পাউডার উদ্ধার করা হয়। এই কন্টেনার সিরিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছিল। কাস্টমসকে ফাঁকি দিতে বলা হয়েছিল, এর মধ্যে ‘ভেড়ার পশম’ রয়েছে। কিন্তু এনসিবি তল্লাশি চালিয়ে ১৯৬.২ কেজি ক্যাপটাগন পাউডার ভর্তি ৩টি ব্যাগ উদ্ধার করে। 
শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, এনসিবি’র ‘অপারেশন রেজপিল’  অভিযানে এই জেহাদি ড্রাগের সন্ধান মিলেছে এই প্রথমবার। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, সম্প্রতি মুম্বইতে এনসিবি বড়োসড়ো ড্রাগ বিরোধী অভিযান চালায়।  ইকুয়েডর থেকে আসা একটি কন্টেনারে  ৩৪৯ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছিল। আর তখনই স্পষ্ট হয় যে, ভারতে যে বিদেশ থেকে শুধুই ড্রাগ পাঠানো হচ্ছে, তা-ই নয়। ভারতকে ট্র্যানজিট হিসাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।  আন্তর্জাতিক মাদক চক্র মাদক পাচারের জন্য বাণিজ্যিক কার্গো এবং কন্টেনার রুটকে ব্যবহার করছে । ক্যাপটাগন কি শুধুই পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও গোয়েন্দারা মনে করছে সম্ভবত নয়। ভারতের অন্দরেও শহরে শহরে চলে যাচ্ছে ড্রাগের একাংশ। ধ্বংস করছে তরুণ প্রজন্মকে। ভারতকে মাদক মুক্ত করবেই মোদি সরকার। এদিন শাহ এই ঘোষণা করেছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ