Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার একদা শক্ত ঘাঁটি ৬৩টি কেন্দ্রে নজর কংগ্রেসের, প্রচারে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

ডাক পেয়েও প্রত্যাখ্যান। বাংলায় একলা চলো নীতি নিয়ে ভোট ময়দানে ঝাঁপাচ্ছে কংগ্রেস।

বাংলার একদা শক্ত ঘাঁটি ৬৩টি কেন্দ্রে নজর কংগ্রেসের, প্রচারে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: ডাক পেয়েও প্রত্যাখ্যান। বাংলায় একলা চলো নীতি নিয়ে ভোট ময়দানে ঝাঁপাচ্ছে কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দেবে দিল্লি। প্রচারে আসবেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। লক্ষ্য অবশ্যই অতীতের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে দলের পুনরুত্থান। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, রাজ্যের ৬৩টি কেন্দ্রে ভাই-বোন কোথাও একা একা, কোথাও যৌথ প্রচার করবেন। সুর চড়াবেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। নিশানায় রাখবেন একদা জোটসঙ্গী সিপিমকেও। আর আদর্শগত দিক দিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ তো কংগ্রেসের মজ্জাগত। 

Advertisement


কংগ্রেস সূত্রে খবর, রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বঙ্গ সফরে দিল্লি হাইকমান্ডের সবুজ সঙ্কেত মিলেছে। খুব শীঘ্রই দলের পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক গোলাম গোলাম আহম্মেদ মীরকে নিয়ে হাইভোল্টেজ প্রচারের ‘রুটম্যাপ’ তৈরি করবে প্রদেশ  নেতৃত্ব। বাংলায় কংগ্রেসকে ভেঙে নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকে মূল কংগ্রেস। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দুই দিনাজপুর, দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো একদা শক্ত ঘাঁটিতেও অস্তিত্ব সংকটে পড়ে কংগ্রেস। শেষ লোকসভা নির্বাচনে হারতে হয় টানা পাঁচ বারের সাংসদ অধীর চৌধুরীকে। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির রায়গঞ্জ কিংবা গনিখান চৌধুরীর মালদহের মতো জায়গাতেও দূর্বল হয়েছে দল। তার উপর রাজনীতিতে একদা জাতশত্রু সিপিএমের সঙ্গে জোট করে কংগ্রেসের আরও  ভরাডুবি হয় বলে মত রাজনৈতিক মহলের। এবারও সিপিএমের তরফে জোটের আহ্বান ছিল। কিন্তু, প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বামেদের সঙ্গে জোট না করার পক্ষে অনড় ছিলেন শুভঙ্কর সরকার। ফলে, পত্রপাঠ বামেদের আহ্বান খারিজ করে বঙ্গের ভোট যুদ্ধে একলা চলো অবস্থান নেয় কংগ্রেস। কাটোয়ায় কর্মিসভায় এসে ‘বর্তমান’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শুভঙ্কর বলেন, ‘রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে আসা হবে। কোন কোন কেন্দ্রে তাঁরা ঘুরবেন, সে ব্যাপারে শীঘ্রই রুটম্যাপ তৈরি হবে। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, ৬৩টি কেন্দ্রে দু’জনে যাবেন।’
বামেদের জোট না করার প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে মানুষের মতামত জেনেছি। কোথাও কংগ্রেস কর্মীরা জোটের পক্ষে সায় দেননি। তারপরেই আমরা এআইসিসিকে একলা চলোর বিষয়টি বোঝাতে পেরেছি। বাংলার মানুষও চাইছেন কংগ্রেস একাই লড়াই করুক।’ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলা একদা কংগ্রেসের দুর্গ হিসাবে পরিচিত ছিল। ওইসব জেলাগুলিকে পাখির চোখ করে ঘুঁটি সাজাতে চাইছেন শুভঙ্কররা। সেই মতো মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান সহ বেশ কয়েকটি জেলায় রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে একাধিক জনসভা করার প্ল্যান রয়েছে। ভোট-যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণ ও তদারকির ভার জন্মু ও কাশ্মীরের বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক গোলাম আহম্মেদ মীরের উপর দিয়েছে হাইকমান্ড। এআইসিসির কাছে  মীর জোট রাজনীতির দক্ষ কারিগর বলেই পরিচিত। বাংলাতেও এখন থেকেই মীরকে  জেলায় জেলায় ঘোরানো হচ্ছে৷ কর্মিসভা করা হচ্ছে। মীর দলীয় কর্মীদের বলছেন, ‘সিপিএমের সঙ্গে আমাদের আদর্শগত খাপ খায় না। তাই, কর্মীদের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিয়েছেন সোনিয়া ম্যাডাম। একক শক্তিতে এবার আমাদের লড়তে হবে।’ সেই লড়াইয়ের ময়দানে এবার উঠে আসবে সিপিএমের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক যুদ্ধের ইতিহাস। এমনই ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন শুভঙ্কর। বললেন, ‘আমরা ভুলি কি করে সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড! নিহতদের আত্মাদের কাছে আমরা এবার বার্তা দিতে পারব কংগ্রেস এখনও সাইনবোর্ড হয়ে যায় নি।’
অতঃপর, ডাক পেলেও যে মাঝে মধ্যে একলা চলতে হয়, তা প্রমাণ করতে মরিয়া প্রদেশ কংগ্রেস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ