নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিজেপি শাসিত রাজ্য হরিয়ানায় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। এইচপিএসসি অর্থাৎ হরিয়ানা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে রবিবার সরব হলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা এআইসিসি মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। কটাক্ষের সুরে বললেন, ওটা আসলে ‘হেরা ফেরি সার্ভিস কমিশনে’ পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতি।
কেন? তাঁর অভিযোগ, হরিয়ানায় বিজেপির এমনই দুর্নীতি যে, সেই রাজ্যের কোনও যোগ্য না পেয়ে বিহার থেকে ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর অলক কুমার ভার্মা নামে একজনকে এইচএসপিসি’র চেয়ারম্যান করা হয়েছে। আবার এই কমিশনেই ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর ঘটেছে ‘অ্যাটাচি কাণ্ড।’ অ্যাটাচিতে ভরে দেওয়া হয়েছে ঘুষ। এইচএসপিসি’র সচিব অনিল কুমার নাগরের অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ডেন্টাল সার্জেন ভর্তির পরীক্ষায় এই ঘুষকাণ্ড চলেছে বলেই অভিযোগ করেছেন সুরজেওয়ালা।
এখানেই শেষ নয়। হরিয়ানা সিভিল সার্ভিস, স্টার্ফ নার্স, বিএলডিএ এবং এএনএম নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ২০১৯ সালের পর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে কোনও নিয়োগই হয়নি। কারণ প্রশ্নপত্র ফাঁস। সুরজেওয়ালার মন্তব্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ২৬টি বিষয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ২ হাজার ২২৪টি পদ। দেড় লক্ষ পরীক্ষার্থী আবেদন করে। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৯ মে পলিটিক্যাল সায়েন্সের সেই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রর প্যাকেটের সিল খোলা ছিল। গত ১ জুন হিন্দি বিভাগের অ্যা অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে নিয়োগ পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র লিক হওয়ার পাশাপাশি ২৭টি প্রশ্ন ছিল ভুল। চলতি মাসের ৮ জুন ভূগোলের পরীক্ষায় আবার ২৬টি প্রশ্ন বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের হুবহু নকল। শেষমেশ চাপে পড়ে পরীক্ষাই বাতিল করে দিয়েছে হরিয়ানা সরকার। কংগ্রেসের প্রশ্ন, বেকার যুবক যুবতীদের সঙ্গে কেন এই ছেলেখেলা? হরিয়ানায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে। এ ব্যাপারে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।