


সন্দীপন দত্ত, মালদহ: বামেদের হাত ছেড়ে এক দশক পর ‘সাবলম্বী’ হয়েছে কংগ্রেস। একলা চলো নীতি নিয়ে বিধানসভা ভোটে লড়বে তারা। নিজেদের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া হাত শিবির। দলের লক্ষ্য এখন শক্তি বাড়িয়ে এবারের ভোটে ফ্যাক্টর হওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত,জোটের গেরোয় কংগ্রেসের সংগঠনে ঘুণ ধরলেও মালদহ এখনো তাদের শক্ত ঘাঁটি। রাজ্যের একমাত্র কংগ্রেস সাংসদ এখান থেকেই নির্বাচিত। জোট থেকে বেরিয়ে আসা কংগ্রেস এবার মালদহের প্রত্যেকটি আসনেই প্রার্থী দেবে বলে ঠিক করেছে। সেক্ষেত্রে জেলার বহু আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি-তৃণমূলের ভাগ্য অনেকটা নির্ভর করছে কংগ্রেস কেমন ফল করে তার উপরেও। কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নুর বলেন, ১২টি আসনই আমরা টার্গেট করছি। জেলায় কংগ্রেস বড় ফ্যাক্টর।
মালদহের ১২টি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল এবং বামফ্রন্ট। ইংলিশবাজার ছাড়া বাকি ১১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপিও। কংগ্রেস সূত্রে খবর,আজকে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে । কিন্তু দেরিতে প্রার্থী দিলেও মালদহের বহু আসনে ভোট কাটাকাটির অংকে কংগ্রেস বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈষ্ণবনগর,সুজাপুর কেন্দ্র সহ আরও কয়েকটি আসনে কংগ্রেস ভোটের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। ২০১১ সালে বৈষ্ণবনগর বিধানসভা গঠিত হয়। সেবার কংগ্রেসের ঈশা খান চৌধুরী এখান থেকে প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের এখানে নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক আছে।
সুজাপুর কেন্দ্র থেকেই এবিএ গনিখান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ১৯৬২ থেকে ২০১৬, টানা ৫৪ বছর আসাদুল্লাহ চৌধুরী, গনিখান চৌধুরী, হুমায়ুন চৌধুরী, রুবি নুর, মৌসম বেনজির নুর ও ঈশা খান চৌধুরী এখান থেকে বিধায়ক হয়েছেন। গত বিধানসভায় তৃণমূলের মহম্মদ আব্দুল গনির কাছে এক লক্ষ ত্রিশ হাজারের বেশি ভোটে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু লোকসভায় এই কেন্দ্রে ব্যাপক লিড পান ঈশা। ফলে কংগ্রেস এই কেন্দ্রেও ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়ে আশাবাদী।
ইংলিশবাজারের কোতোয়ালি অঞ্চল কার্যত কংগ্রেসের দখলে। এগারোর বিধানসভায় কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেস এখানে শেষবার জেতে। এরপর কৃষ্ণেন্দু তৃণমূলে যোগদান করার সঙ্গে সঙ্গে ইংলিশবাজার কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়। পরের বার নির্দল থেকে নীহার রঞ্জন ঘোষ ও একুশে বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী এই কেন্দ্রের বিধায়ক হন। যদিও কংগ্রেসকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল এবং বিজেপি। তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন,লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচন দুটি আলাদা প্রেক্ষিত। লোকসভা নির্বাচনে একটি সিট পেলেও বিধানসভায় কিছুই করতে পারবে না। কারণ এই ভোট হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে সামনে রেখে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,কংগ্রেস আমাদের কাছে কোনও ফ্যাক্টরই নয়। তাই ওই দল নিয়ে কোনও মাথাব্যথাও নেই।