Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বিএলও নিযুক্ত করা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও কমিশনের সংঘাত?

রাজ্যে জোরকদমে চলছে এসআইআরের কাজ। শিক্ষক, গ্রুপ সি কর্মী এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মী-আধিকারিকদের বিএলও করা হয়েছে।

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বিএলও নিযুক্ত করা  নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও কমিশনের সংঘাত?
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে জোরকদমে চলছে এসআইআরের কাজ। শিক্ষক, গ্রুপ সি কর্মী এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মী-আধিকারিকদের বিএলও করা হয়েছে। কিন্তু যেখানে এই ধরনের সরকারি কর্মী পাওয়া যায়নি, সেখানে নির্বাচন কমিশনের অনুমতিক্রমে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের এই দায়িত্ব দেওয়া নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কার্যত সামনে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশনের সংঘাত! কেন্দ্রীয়  নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে বলেছে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের যেন আইসিডিএসের কাজ ছাড়া অন্য কোনও কাজে নিযুক্ত না করা হয়। সেই মতো রাজ্যের তরফে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তর একই নির্দেশিকা (ম্যাচিং অর্ডার) জারি করেছে। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর জন্য যখন প্রস্তুতি চলছিল, তখন কেন এমন নির্দেশ দেওয়া হল না? তাছাড়া, কেন্দ্রীয় মন্ত্রক কেন বিষয়টি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে না জানিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে জানাল? কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সংঘাত নাকি সমন্বয়ের অভাবে এই পরিস্থিতি, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে চলছে বিস্তর চর্চা। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর মন্ত্রক ওই নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে বলা হয়, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নির্বাচন, নানা ধরনের সমীক্ষা সহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। এতে আইসিডিএসের কাজ বিঘ্নিত হতে পারে। তাই এই কর্মীদের অন্য কোনও কাজে নিযুক্ত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এদিকে, মন্ত্রক যেদিন এই নির্দেশ পাঠাচ্ছে, সেদিনই সাংবাদিক বৈঠক করে এসআইআর নিয়ে সরকারি ঘোষণা করেছিল কমিশন। তার আগেই বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও নিযুক্ত করার কাজ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বিএলও হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তাহলে কেন্দ্রের এমন নির্দেশিকা জারির কী অর্থ, তা স্পষ্ট নয় বলে দাবি অনেকের। কেউ কেউ বলছেন, এই চিঠি রাজ্যকে না দিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া উচিত ছিল। কারণ এখন রাজ্য চাইলেও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বিএলওর দায়িত্ব থেকে সরাতে পারবে না।
অথচ মন্ত্রকের চিঠিতে সাফ বলা হয়েছে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নির্ধারিত কাজের বাইরে অন্য দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হলে তাঁদের মূল কাজই ব্যাহত হবে। আখেরে শিশু ও মায়েদের প্রতি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের দায়বদ্ধতায় টান পড়তে পারে। এই বার্তা স্পষ্ট হলেও কীভাবে তা পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর আবহে লাগু করা যাবে, সেই উত্তর মিলছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ