নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দুই নেতার দ্বন্দ্বের জেরে বর্ধমান সাংগঠনিক জেলায় সব মণ্ডলের সভাপতির নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি। রবিবার ১২জন মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়। তার আগেও একটি তালিকা সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু, দুই নেতার লড়াইয়ের জন্য চারটি মণ্ডলের সভাপতি ঘোষণা স্থগিত হয়ে গিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই নেতা তাঁদের নিজেদের লোকজনকে মণ্ডল সভাপতির পদে বসাতে চাইছেন। সেইমতো দু’টি তালিকা জমা পড়েছে। দুই নেতা সংগঠনে প্রভাবশালী। তাঁদের কলকাতা ‘কানেকশন’ও মজবুত। সেকারণে সিদ্ধান্ত নিতে বেগ পাচ্ছে জেলা নেতৃত্ব। রবিবার ঘোষণা হওয়া তালিকা নিয়েও বিজেপির অন্দরমহলে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা তোপ দাগতে শুরু করেছে। দুর্দিনে না থাকার পরও কয়েকজন মণ্ডল সভাপতির পদ পেয়ে গিয়েছেন বলে দলেরই একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছে। দলের এক নেতা বলেন, বহু পুরনো নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন। তাঁদের পদে বসালে সমস্যা হতো না। কিন্তু যাঁরা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন না তাঁদের পদে বসানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বধর্মান সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির কোন্দল সর্বজনবিদিত। বহুবার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য নেতারা এসে জেলা নেতৃত্বকে একাধিক টোটকা দিয়ে গিয়েছেন। তারপরেও দলের কোন্দল থামানো যায়নি। দুর্গাপুর মহকুমায় দুই নেতার মধ্যে বিরোধ সম্প্রতি চরম আকার নিয়েছে। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জমা করেছে। নিজেদের মধ্যে কোন্দল তুঙ্গে ওঠায় দল সফল কোনও কর্মসূচি নিতে পারছে না। শাসকদল ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে জনসংযোগ সারছে। কিন্তু বিজেপি এখনও ময়দানে নামতে পারেনি। সাংগঠনিক স্তরে রদবদল সম্পূর্ণ না হওয়ায় নেতৃত্ব ময়দানে নামতে পারছে না।
বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, অধিকাংশ মণ্ডলের সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকটি মণ্ডলের নাম ঘোষণা হতে বাকি রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে সেই মণ্ডলগুলির নামও ঘোষণা করা হবে। দলের আর এক নেতা বলেন, বাকি মণ্ডলের নাম ঘোষণার বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের কোর্টে রয়েছে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। লোকসভা নির্বাচনে দুর্গাপুরে দল পিছিয়ে গিয়েছিল। সংগঠনও নড়বড়ে। তাই শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও পক্ষকেই চটাতে রাজি নয়। দু’পক্ষের মতামত নিয়েই বাকি মণ্ডলের সভাপতিদের নাম ঘোষণা হবে।