Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালুরঘাট হাসপাতালে প্রসূতিদের অবস্থা স্থিতিশীল, ইঞ্জেকশন, স্যালাইন সহ ওষুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য গেল ল্যাবে

বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে শুক্রবার সকালে এক প্রসূতির মৃত্যু এবং রাতে আট প্রসূতির পর পর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর শনিবারও ভয় কাটল না পরিজনদের।

বালুরঘাট হাসপাতালে প্রসূতিদের অবস্থা স্থিতিশীল, ইঞ্জেকশন, স্যালাইন সহ ওষুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য গেল ল্যাবে
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

Advertisement

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে শুক্রবার সকালে এক প্রসূতির মৃত্যু এবং রাতে আট প্রসূতির পর পর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর শনিবারও ভয় কাটল না পরিজনদের। তাঁদের অভিযোগ, সন্ধ্যায় ‘অ্যামিকাসিন’ নামক ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই প্রসূতিদের কাঁপুনি শুরু হয়। ওই  ইঞ্জেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় প্রসূতিরা হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিনও তাঁদের চিকিত্সা চলছে সিসিইউতে। অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও ঝুঁকি কমেনি। 
একসঙ্গে এত প্রসূতি হঠাত্ অসুস্থ কেন? তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা। অ্যামিকাসিন নামে ওই অ্যান্টিবায়োটিকে কোনও সমস্যা ছিল কি না, বা তা মেয়াদ উত্তীর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীদের পরিজনরা। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দাবি উড়িয়ে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। ইঞ্জেকশন নিয়ে সন্দেহ থাকায় শুক্রবার রাতেই গোটা জেলায় তা ব্যবহার করা বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকী ওই ইঞ্জেকশনের ওষুধ, স্যালাইন ও রোগীদের লালার নমুনা ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা রোগীদের দেখভালের জন্য তিন চিকিৎসকের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা স্বপন সরেনের নির্দেশে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-১ সহ মোট ১০ জনের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তও চলছে। 
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাসের কথায়, এখন সকলের অবস্থা স্থিতিশীল। মেডিক্যাল বোর্ড প্রতিনিয়ত  নজর রাখছে। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ইঞ্জেকশন, স্যালাইন সহ সবকিছুর নমুনা ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাই সংক্রমণের আশঙ্কায় একটি অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রেখে তা জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। 
শুক্রবার রাত থেকে চোখের পাতা এক করতে পারেননি রাজদীপ ঘোষ, পিন্টু দাস, ববি দাসের মতো রোগীর পরিজনরা। রাজদীপ বলেন, ইঞ্জেকশন থেকে এই সমস্যা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। মনে হয়, ভুল ওষুধ চলে গিয়েছে। হাসপাতাল এখনও কিছু স্পষ্ট করে জানায়নি। এখানে হাসপাতালের গাফিলতি স্পষ্ট। 
যদিও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি, যে ইঞ্জেকশন নিয়ে অভিযোগ এসেছে, তা সব জায়গায় ব্যবহার হয়। কোথাও কোনও সমস্যা আসেনি। তবুও আমরা আপাতত ওই ইঞ্জেকশনের ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করেছি। 
এদিকে, বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে চিকিত্সা পরিষেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হল বিজেপি ও সিপিএম। শনিবার হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখায় জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। পরে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে রোগীদের দেখে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ