সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: যে কোনও শহরের পার্ক হল সেই শহরের ফুসফুস। সেখানে মানুষ স্বস্তি পায়, শিশুরা খেলাধুলো করে আর নাগরিকরা কিছুটা প্রশান্তি খুঁজে পায়। কিন্তু কৃষ্ণনগর শহরের ক্ষৌণীশ পার্কের বর্তমান অবস্থা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। একসময় যেখানে সকালে-সন্ধ্যায় মানুষের ভিড় জমাতেন, বাচ্চারা হাসিমুখে খেলাধুলো করত, বয়স্করা একসাথে বসে গল্প গুজব করতেন, সেখানে আজ সবই স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষ্ণনগর শহরের ক্ষৌণীশ পার্ক ঘুরে দেখা যায় পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ একদম নেই। একদিকে ভাঙা দোলনা, মরচে ধরা ব্যালান্সার, ভেঙে পড়েছে বাচ্চাদের খেলার জন্য তৈরি ঘোড়া, ডাইনোসরের মূর্তি, আবর্জনায় ভর্তি পার্কের কর্নার। পার্কের মধ্যে ছাগল, মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সন্ধ্যার পর পার্কের এক অংশ যেন নেশাড়ুদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় এক প্রবীণ নাগরিক, অভিষেক ঘোষ বলেন, আগে এই পার্কেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটু বসতে আসতাম। এখন জায়গাটা কেবল নোংরা আর ভাঙাচোরা। প্রশাসনের কোনও নজর নেই। পার্কের গেট সবসময় বন্ধ করেই রাখা হয়।
অভিভাবকরাও বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কারও কোনও পদক্ষেপ নেই। আগে প্রতিনিয়ত বিকালবেলায় বাচ্চাদের পার্কে নিয়ে আসা হতো, কিন্তু বর্তমানে নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে তাঁরা সন্তানদের আর পার্কে আনতে চান না। ক্ষৌণীশ পার্ক নিয়ে কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, পার্কের সৌন্দর্যায়ন নিয়ে আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে তা করা হয়ে ওঠেনি। তবে আমরা তার দ্রুত সমাধান করব।
আরও এক স্থানীয় শ্রীকান্ত দাশগুপ্ত বলেন, বেলেডাঙ্গা ক্ষৌণীশ পার্কের অবস্থা দিনদিন শোচনীয় হয়ে উঠছে। নতুন করে পার্কটিকে সাজানোর পর সন্ধ্যায় জনসমাগম হতে দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন অবক্ষয়ের কারণে পার্কটি ক্রমশ তার গুরুত্ব হারাচ্ছে। শহরের মানুষজন, শিশুদের বিনোদনের জন্য ক্ষৌণীশ পার্ক পুনরায় সাজানো প্রয়োজন বলে মনে করছি।
পার্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি। পার্কের অবস্থা বেহাল থাকায় শিশুদের শারীরিক বিকাশ ও মানসিক প্রশান্তির জায়গা হারিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বয়স্ক ও মধ্যবয়সিরা। প্রশাসনের তরফে এখনই উদ্যোগ নেওয়া না হলে, এই পার্কগুলোর অস্তিত্ব একদিন পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে। সবুজ শহরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে চাইলে, শহরের পার্কগুলোকে বাঁচাতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।