Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গিপুরে ভাগীরথী সেতু ঘেঁষে কংক্রিটের দোকানপাট, ব্রিজের কাঠামো নষ্টের শঙ্কা

জঙ্গিপুরের ভাগীরথী সেতুর তলায় প্রচুর দোকানপাট গজিয়ে উঠেছে। কোনওটি সেতুর গা ঘেঁষে, আবার কোনওটি ছুঁয়েছে সেতু ও পিলার

জঙ্গিপুরে ভাগীরথী সেতু ঘেঁষে কংক্রিটের দোকানপাট, ব্রিজের কাঠামো নষ্টের শঙ্কা
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: জঙ্গিপুরের ভাগীরথী সেতুর তলায় প্রচুর দোকানপাট গজিয়ে উঠেছে। কোনওটি সেতুর গা ঘেঁষে, আবার কোনওটি ছুঁয়েছে সেতু ও পিলার। দেখভালের অভাবে এভাবে সেতুর তলায় কার্যত জতুগৃহ হয়ে উঠছে। ফলে প্রায়শই অগ্নিকাণ্ড হচ্ছে। তাছাড়া অবৈধভাবে একের পর এক দোকান গজিয়ে ওঠায় সেতুর স্বাভাবিক স্থায়িত্ব নষ্ট হতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। কারণ, উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী সেতু দুলতে থাকে। কিন্তু, সেতুর গা ঘেঁষে কংক্রিটের দোকানপাট গড়ে ওঠায় সমস্যা হচ্ছে। জঙ্গিপুরের পূর্ত দপ্তরের বাস্তুকার রাজদীপ সাহা বলেন, আগামী প্রশাসনিক মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করব। তারপরই যা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

রঘুনাথগঞ্জে গঙ্গার উপর নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার এই সেতুর নীচে দু’প্রান্তেই শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। চা, পান, রুটি, তেলেভাজা থেকে হোটেল। এমনকী পোশাকের দোকান থেকে রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিস, গ্যারেজ এবং স্টোররুম গড়ে উঠেছে। অধিকাংশই খাবারের দোকান। দোকানের ধোঁয়া ও তাপে ব্রিজের যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ। সেতুর তলায় এভাবে একের পর দোকান গড়ে ওঠায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পিলার ও সেতু পর্যন্ত কংক্রিটের দেওয়াল তুলে দোকানঘর তৈরির বিরুদ্ধে তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, কংক্রিটের দেওয়াল থাকা সেতুর পক্ষে খারাপ। এতে সেতুর স্থায়িত্ব নষ্ট হতে পারে। কয়েকটি দোকান ব্রিজ থেকে নামমাত্র দূরে করা হলেও অধিকাংশই সেতুর পিলার ও সেতু ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। তাছাড়া এইসব দোকান থেকে যে কোনওদিন বড়সড় অগ্নিকাণ্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দোকানগুতিতে মাঝেমধ্যেই আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তা নিভিয়ে ফেলা হয়। এর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গভীর রাতে সেতুর তলায় অবৈধভাবে গজিয়ে ওঠা দোকানে আগুন লাগে। তাতে সেতুর পূর্বদিকের অংশের তিনটি পিলারের বিয়ারিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সেইসময় পূর্তদপ্তর সেতুটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০১৪সালে সেতুর ছ’টি গার্ডার বদলে দেওয়া হয়।
জঙ্গিপুরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ২০০১সালে সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। ফলে ওমরপুর ৩৪নম্বর জাতীয় এবং লালগোলা রাজ্য সড়কের সঙ্গে যোগাযোগের ফলে লালগোলা ও জেলা সদর বহরমপুরে যাওয়ার সুবিধা হয়। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে কয়েক হাজার বাসিন্দা ও হাজার হাজার ভারী যান চলাচল করে। গতবছরের শেষের দিকে সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন পূর্তদপ্তরের প্রতিনিধিরা। সেতুর বিভিন্ন অংশে এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা করা হয়। মূলত কংক্রিটের অবস্থা, সেতুর নীচের অংশ ও বিয়ারিং পরীক্ষা করা হয়। জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, দোকানগুলির সঙ্গে বহু মানুষের রোজগার জড়িয়ে আছে। তবে সেতুর যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সকলকে সতর্ক করা হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ