সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: শনিবার ভোররাতে আচমকাই ভেঙে পড়ল কালুয়া নদীর উপর থাকা কংক্রিটের সেতু। এখন গ্রামবাসীদের নদী পারাপারের ক্ষেত্রে একমাত্র সম্বল কলাগাছের ভেলা। বর্তমানে বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের কলার ভেলায় বসিয়ে নদী পারাপার করানো হচ্ছে।
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: শনিবার ভোররাতে আচমকাই ভেঙে পড়ল কালুয়া নদীর উপর থাকা কংক্রিটের সেতু। এখন গ্রামবাসীদের নদী পারাপারের ক্ষেত্রে একমাত্র সম্বল কলাগাছের ভেলা। বর্তমানে বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থ রোগীদের কলার ভেলায় বসিয়ে নদী পারাপার করানো হচ্ছে।
পাথরপ্রতিমার দক্ষিণ গঙ্গাধরপুরের আবাদ গঙ্গাধরপুর গ্রামের সঙ্গে শ্রীনারায়ণপুর-পূর্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই সেতুটি। ছয় বছর আগে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। অতীতেও একবার এই সেতুটির বেহাল অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় সরু কয়েকটি লোহার রড ব্যবহার করে কোনো রকমে সেটি মেরামত করা হয়েছিল। তা নিয়ে এলাকাবাসীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। রবিবার সকাল থেকে ভেঙে যাওয়া সেতুর সামনে দাঁড়িয়ে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখান।
স্থানীয় এক বাসিন্দা অরবিন্দ হালদার বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার কারণে আবাদ গঙ্গাধরপুর গ্রামের বাসিন্দারা খুবই সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে যেতে পারছে না। অসুস্থ রোগীকে নিয়েও চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়া যাচ্ছে না। খুব জরুরি কিছু কাজ থাকলে কলার ভেলায় করে গ্রামবাসীরা নদী পারাপার করছেন। অথচ এই সেতুটি নির্মাণের সময় গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করেছিলেন। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছিল। বিষয়টি তৎকালীন দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিদের বলা সত্ত্বেও কেউ কর্ণপাত করেননি। বরং বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে গ্রামবাসীদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেতুটি ভেঙেই পড়ল। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, শীঘ্রই ওই এলাকা পরিদর্শনে যাব। এছাড়াও সেতুটি যাতে শীঘ্রই মেরামত করা যায়, তার ব্যবস্থা করা হবে।