নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের আর্থিক অগ্রগতির ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ এলাকায়। এর ফলে একাধিক পঞ্চায়েত এলাকায়ও মাথা তুলছে গগনচুম্বী বহুতল। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত এলাকার বিল্ডিং রুলসে বদল আনার তোড়জোড় শুরু করেছে পঞ্চায়েত দপ্তর। লক্ষ্য বেআইনি নির্মাণ আটকানো। সেই সঙ্গে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকাতেও ‘রেরা’ (রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি) রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বহুতলের কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (সিসি) না দেওয়ার নিয়ম বলবৎ করার লক্ষ্যে ঝাঁপাচ্ছে রাজ্য।
গ্রামীণ এলাকার জন্য কেন এই নিয়মের প্রয়োজন পড়ল? প্রশাসনিক কর্তারা জানাচ্ছেন, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, হাওড়া, মেদিনীপুরের মতো রাজ্যের বিভিন্ন শহর লাগোয়া এমন বহু পঞ্চায়েত এলাকা রয়েছে, যেখানে একের পর এক বহুতল আবাসন মাথা তুলছে। এমনকী, কলকাতার অদূরে রাজারহাটেও রয়েছে পঞ্চায়েত এলাকা। মূলত এই কারণে গ্রামীণ এলাকাতেও দ্রুত এই নিয়ম কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে বহুতলের সিসি পেতে গেলে ‘রেরা’ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছে নবান্ন। বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যসচিব। তৎক্ষণাৎ নির্দেশ কার্যকর করতে তৎপর হয়েছে ‘রেরা’ কর্তৃপক্ষ। সেই পথ ধরে সাফল্যও এসেছে কলকাতা পুরসভায়। রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা এলাকাতেও এই নিয়ম কার্যকর করার লক্ষ্যে পুরপ্রধান ও আধিকারিকদের নিয়ে কর্মশালা চলছে। চলতি মাসের শেষের দিকে মালদহ এবং দুই দিনাজপুরের পুরসভাগুলিকে নিয়ে কর্মশালার পরিকল্পনা রয়েছে। আর পঞ্চায়েত এলাকায় এই নিয়ম বলবৎ করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে পঞ্চায়েত দপ্তরের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে ‘রেরা’ কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকেই গ্রামীণ এলাকার জন্য নয়া বিল্ডিং রুলস নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানায় পঞ্চায়েত দপ্তর। সেই বদলের খসড়া নিয়ে ইতিমধ্যে পঞ্চায়েত দপ্তরের সঙ্গে আইন দপ্তরের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। নয়া বিল্ডিং রুলস লাগু হলে আরও কড়া হাতে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলেও মত প্রশাসনিক মহলের। সিসি’র জন্য ‘রেরা’ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হওয়ার নিয়মও প্রয়োগ করা হবে। সেক্ষেত্রে বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে ‘রেরা’র সঙ্গে একযোগে কাজ করবে পুর এবং পঞ্চায়েত দপ্তর। সংযুক্ত হবে এই তিনটি পোর্টালও। ফলে একটি নির্মীয়মান বহুতলের ‘রেরা’ রেজিস্ট্রেশন আছে কি না, তা দেখে নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এবং পুরসভা। তা না থাকলে মিলবে না সিসি। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত বা পুরসভা বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করেছে কি না, তাও এই সংযুক্তিকরণের ফলে সহজেই দেখে নিতে পারবে ‘রেরা’ কর্তৃপক্ষ। বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান থাকলে তবেই রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেবে তারা। কলকাতা পুরসভা ও এনকেডিএ’র পৃথক পোর্টাল রয়েছে। এই দু’টির সঙ্গে আলাদাভাবে সংযুক্ত করা হবে ‘রেরা’র পোর্টালকে।