Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান শহরে বেহুলা নদী ভরাটের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

আবারও জমি মাফিয়াদের নজর পড়েছে বেহুলা নদীর উপর। মাফিয়ারা নদী ভরাট করছে

বর্ধমান শহরে বেহুলা নদী ভরাটের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আবারও জমি মাফিয়াদের নজর পড়েছে বেহুলা নদীর উপর। মাফিয়ারা নদী ভরাট করছে। এমনই অভিযোগ পেয়ে শনিবার জেলার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা ওই এলাকা পরিদর্শনে যান। আধিকারিকরা নারী, সাধনপুরের আলুডাঙা ঘোষপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চাক্ষুষ করেন। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, যে বা যারা অসামাজিক কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করার পর রিপোর্ট দিয়েছেন।

Advertisement

স্থানীয়রা বলেন, বেহুলা নদী ২০ বছর আগে থেকে ভরাটা শুরু হয়েছে। সেই সময় সেখানে প্লট করে জমি বিক্রি করা হতো। সেই ধারা এখনও বজায় রয়েছে। মাঝে কিছুদিন ভরাট বন্ধ ছিল। এখন আবার নতুন করে মাফিয়ারা সক্রিয় হয়েছে। দেওয়ানদিঘি থেকে নান্দরা এলাকায় ভরাট চলছে। এর আগে খাগড়াগড়েও এই নদী ভরাটের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময়ও প্রশাসন অভিযান চালায়। তারপর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমেছিল। এখন আবার তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই নদী ভরাট হয়ে গেলে শহরের একাংশের নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। বিশেষ করে খাগড়াগড় এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এলাকার বাসিন্দারা আরও বলেন, কিছুদিন আগে পর্যন্ত বাঁকা ভরাট করতেও মাফিয়ারা একইভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। নদী গর্ভে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। 
বর্ধমানের দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, বাঁকা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেউ যদি বাঁকার পাড় নতুন করে দখল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, কোনও জলাশয় ভরাট করা যাবে না। সম্প্রতি আমাদের কাছে কয়েকটি অভিযোগ জমা হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেহুলা নদীও বাঁচানো হবে। 
ভূমি এবং ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন আধিকারিকরা এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। যারা ভরাট করছে, তাদের নামের তালিকা প্রাথমিক ভাবে তৈরি করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে আবার ওই এলাকা পরিদর্শন করা হবে। নদী সংস্কারের জন্য কোনও উদ্যোগ নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আধিকারিকরা আলোচনা করবেন। স্থানীয়রা বলেন, নদীর বহু অংশ অনেক দিন আগেই ভরাট হয়ে গিয়েছে। এখন সেটি খালে পরিণত হয়েছে। এখনই পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই ‘খাল’ বাঁচবে না। পরিণামে শহরের একাংশ বর্ষায় প্লাবিত হবে। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ