নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে এসে হয়রানির শিকার হলেন রোগীরা। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আউটডোর থেকে চিকিৎসক বেরিয়ে যান বলেই অভিযোগ রোগীদের। বৃহস্পতিবার অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসককে না পেয়ে সুপারের দ্বারস্থ হলেন রোগীরা। ক্ষোভের আঁচ বুঝতে পেরে সুপারের ঘরেই আউটডোর পরিষেবা চালু করে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, নওদার মধুপুর থেকে শেরফুল ইসলাম মণ্ডল বৃহস্পতিবার দুপুরে মেডিক্যালে আসেন। নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকেও ডাক্তার দেখাতে এসে বিপাকে পড়েন। দুপুর দু’টো পর্যন্ত মেডিক্যালের আউটডোরে চিকিৎসকেরা পরিষেবা দেন। কোনওদিন বেশি পরিমাণে রোগী থাকলে তাঁদের পরিষেবা দিয়ে তবেই আউটডোর পরিষেবা বন্ধ হওয়ার কথা। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, অধিকাংশ দিনই দু’টোর আগেই আউটডোর ছেড়ে বেরিয়ে যান চিকিৎসকরা। এদিনও একই ঘটনা ঘটেছে।
শেরফুল বলেন, ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে চিকিৎসা করাতে মেডিক্যালে এসেছি। দুপুর একটার সময় লাইন দিয়ে টিকিট করেছি। অর্থোপেডিক বিভাগের ৮ নম্বর ঘরে চিকিৎসা করাতে গেছিলাম। পৌনে দু’টোয় ডাক্তারের ঘরে ঢুকে দেখছি ডাক্তার নেই। আমি চিকিৎসকের জন্য যখন অপেক্ষা করছিলাম, তখন ঘরের লাইট অফ করে দেওয়া হয়েছে। দু’টো পর্যন্ত চিকিৎসকের থাকার কথা। উনি তার আগেই বেরিয়ে যান। এর আগেও দু’দিন চিকিৎসককে দেখিয়েছি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আউটডোর ছেড়ে বেরিয়ে যান চিকিৎসকরা। এটাই অনেকের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তার খেসারত দিতে হয় রোগীদের। তাঁরা দূর থেকে এসেও পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী জল্পনা বিবিও মেডিক্যাল ১১৬ নম্বর ঘরে ঢুকে ডাক্তারকে দেখাতে পাননি। সেখানেও চিকিৎসক ছিল না।
এদিকে চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে এদিন সোজা সুপারের দ্বারস্থ হন বেশ কয়েকজন রোগী। সেখানে গিয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানালে পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের সুপার নিজের ঘরেই আউটডোরের চিকিৎসকদের ডেকে পাঠান।
এদিন বেশ কয়েকজন মহিলা রোগী বলেন, দূর থেকে এখানে চিকিৎসা করাতে আসি। মেডিসিন বিভাগেও একই অবস্থা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না করিয়ে অধিকাংশ চিকিৎসক বাইরে প্রাইভেট চেম্বারে বসে রোগী দেখছেন। সেখানে মোটা ভিজিটে মোটা টাকা উপার্জন হচ্ছে। তাই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ায় তাঁদের মন নেই।
এক রোগীর আত্মীয় বলেন, সুপারকে বললাম আমাদের অবস্থার কথা। প্রতিদিন শয়ে শয়ে রোগী ফেরত যাচ্ছেন। আউটডোরের পরিষেবা মিলছে কি না, সেটা সুপারকে দেখতে অনুরোধ করেছি। আমরা চিকিৎসা করাতে এসেছি, ক্ষোভ প্রকাশ করতে নয়। তবু আমাদের এটা করতে হল চিকিৎসকদের আচরণের জন্যই।
হাসপাতালের এমএসভিপি অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, তিনজন রোগী আমাদের কাছে এসেছিলেন। আউটডোরে চিকিৎসা করাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। আমরা চিকিৎসকদের ডেকে পাঠিয়েছি। এখানে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদেরকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়।
এদিনই তিনজন মহিলা মেডিক্যালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা করাতে এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁরা দিনের পর দিন রক্তের রিপোর্ট এনে ফিরে যাচ্ছিলেন বলেই অভিযোগ। চিকিৎসককে তাঁদের রিপোর্ট দেখাতে পারছিলেন না। এদিন সুপারের দ্বারস্থ হওয়ায় মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসককে ডেকে সেই রিপোর্ট দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।