নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ম্যাপিং হয়েছিল, এমন নাম আচমকাই ‘ভ্যানিশ’ এসআইআর-এর অ্যাপ থেকে! সম্প্রতি সরেজমিনে কাজ করতে গিয়ে বিএলও অ্যাপের এহেন প্রযুক্তিগত ত্রুটির সম্মুখীন হতে হয়েছে বুথ লেভেল অফিসারদের। কেন বা কীভাবে ম্যাপিংয়ের পরেও নাম বাদ গেল, তা নিয়ে অনেক বিএলও-ই ধন্দে পড়ছেন। কেবল গায়েব হওয়াই নয়, পরিবারের কারও নাম রয়েছে, এমন ব্যক্তির নাম অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবেও ম্যাপিং হচ্ছে সেই অ্যাপে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিএলওরা ধন্দে পড়লেও আধিকারিকরা মনে করছেন, এ সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি। এতে এসআইআর পদ্ধতিতে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই অভিমত তাঁদের।
নদীয়া জেলায় এসআইআর-এর প্রাথমিক পর্যায়ের ম্যাপিং ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। কমবেশি প্রায় ৫৬ শতাংশ নাম ম্যপিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। রানাঘাট মহকুমার ক্ষেত্রে এই হার ৪৪ শতাংশের আশেপাশে। এরমধ্যে বিএলওরা বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। সেই কাজ শুরু হতেই নজরে এসেছে ম্যাপিং হওয়া নাম ‘ভ্যানিশ’ হওয়ার বিষয়টি। নির্বাচন কমিশনের গোটা দেশের ডেটাবেস রয়েছে ওই অ্যাপে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে নাম, এপিক নম্বর এবং নির্বাচকের নাম দিলে তার পরিবারের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাপিং হয়ে যাচ্ছে নির্বাচকের নাম। অ্যাপ তার ডেটাবেসের সাহায্যে নিজেই এই কাজ করছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মাঝেমধ্যে উল্টোপালটা আচরণও করছে সেটি। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়েই ম্যাপিং হয়ে গিয়েছিল, এমন নাম আচমকাই ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে সেই অ্যাপ থেকে। ফলে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন যাঁরা কাজ করছেন তাঁরা। বেশ কয়েকটি মহকুমা থেকে এরকম অভিযোগও এসেছে বিএলওদের তরফে। ফলে পুনরায় এইরকম নামগুলিকে নতুন করে ম্যাপিংয়ের আওতায় আনতে হচ্ছে। কমবেশি ৪ থেকে ৫ শতাংশ নামের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যদিও পরবর্তীতে তাদের পুনরায় ম্যাপিং করতে নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা বলেন, এটি একটি সাধারণ ত্রুটি। স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ কিছু ডেটা নিজে থেকেই ম্যাপিং করছে। কিছু ক্ষেত্রে এরকম সমস্যা হচ্ছে ঠিকই। অনেক ক্ষেত্রে আবার কিন্তু নতুন ম্যাপিং নিজে থেকেও করে নিচ্ছে। ফলে এটা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামানোর নেই। নতুন করে ম্যাপিং করে দিলেই আবার সেই নামগুলি চলে আসছে। এসআইআর পদ্ধতিতে এর ফলে কোনও সমস্যা হবে না।
যদিও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যদি বিষয়টি সাধারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি হয় তাহলে ঠিক আছে। সেটির সমাধান নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু বৈধ ভোটারের নাম যদি এইভাবে বাদ যায়, তাহলে তৃণমূল কিন্তু রাজনীতির ময়দানে বড়সড়ো আন্দোলন করার জন্য আছে। পাল্টা অবশ্য নদীয়া দক্ষিণ জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, বিষয়টি মনে হয় সাধারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি। আশা করব যেন এই ত্রুটির সমাধান হয়ে যায়। তৃণমূল অলীক কথা বলছে। বৈধ ভোটারের নাম কোনওভাবেই বাদ যেতে পারে না। নির্বাচন কমিশন বৈধ ভোটার চিহ্নিত করতেই এই কাজ করছে। তৃণমূল বাজার গরম করে মানুষকে আতঙ্কে রাখতে চাইছে।