নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুনানি কেন্দ্রে থাকছে না সিসি ক্যামেরা। ওয়েবকাস্টিং বা ভিডিও রেকর্ডিও করা হবে না। তবে, শুনানির সময় কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা হাজির থাকবেন। তাঁরা নথি খুঁটিয়ে দেখবেন। কমিশনের নির্দেশমতো শুনানি কেন্দ্রের পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্লকের কোনও সরকারি অফিসে শুনানি কেন্দ্র করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তা করা যাবে না।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শুনানির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ক্যাম্পে আসা লোকজনের যাতে সমস্যা না হয়, তা দেখার জন্য বলা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পানীয় জল, বসার ব্যবস্থা থাকতে হবে। শুনানির সাতদিন আগে নোটিশ করা হবে। কবে ও কোথায় আসতে হবে, তা সেই নোটিশে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিএলওরা নোটিশ বিলির কাজ করবেন। এক আধিকারিক বলেন, নোটিশের বয়ান কী হবে, তা বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত জানানো হয়নি। কমিশন সব কাজ শেষ মুহূর্তে করছে। তাতে আধিকারিকদের চাপ বাড়ছে। ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। বিএলওদের ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতি হয়েছে। অতিরিক্ত চাপ নিতে গিয়ে তাঁদের কিছুটা ভুল হয়েছে। অনেক জীবিত ভোটারকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। বেশি সময় নিয়ে কাজ করলে এই সমস্যা হতো না। জেলায় সাড়ে তিন লক্ষের বেশি ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। অথচ, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাউকে নোটিশ দেওয়া হয়নি। শুনানি শুরু হতে ২৫ বা ২৬ তারিখ হয়ে যেতে পারে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য বিএলওদের কাছ থেকে ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া, বিডিও অফিস থেকেও ফর্ম পাওয়া যাবে। জেলায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নতুনদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, অন্যান্য বছর ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য লাগাতার প্রচার করতে হত। তারপরও অনেকের মধ্যে উৎসাহ দেখা যেত না। এবার উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। ১৮ পার হওয়া যুবক-যুবতীরা নিজে থেকেই সরকারি অফিসে গিয়ে নাম তোলার জন্য দরবার করছেন। ১৮ পেরনোর পরও এতদিন কোনও কারণে যাঁদের নাম তোলা হয়নি, তাঁরাও সরকারি অফিসে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। ফর্ম বিলি, সংগ্রহ ও ডিজিটাইজেশনের কাজ চলায় নতুনরা নাম তুলতে পারেনি। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ফর্ম দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন ভোটারদের নাম তোলার প্রক্রিয়াও চলবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিএলওদের কাছে নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম পৌঁছয়নি। অনলাইনে নাম তোলার জন্য আবেদন করলেও ঘোষণাপত্র দিতে হবে। সেই ঘোষণাপত্রও বিএলওদের কাছে পাওয়া যাবে। তাতে আধার নম্বর, ফোন নম্বর সহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই এই কাজ গতি পাবে।