মলমল কাপড়ের কথা তো শুনেছেন। এখন তারই সংক্ষেপ রূপ মাল বা মল কটন শাড়ি! মলমল শাড়ির আরাম সম্পর্কে সকলেই জানেন। হালফ্যাশনে মলমল শাড়ির কদর আরও বেড়েছে।
মলমল কাপড়ের কথা তো শুনেছেন। এখন তারই সংক্ষেপ রূপ মাল বা মল কটন শাড়ি! মলমল শাড়ির আরাম সম্পর্কে সকলেই জানেন। হালফ্যাশনে মলমল শাড়ির কদর আরও বেড়েছে।
পালকের মতো নরম এই শাড়ির গুণের জন্য একসময় রাজকীয় আসনেও ঠাঁই পেত মলমল। হ্যান্ড ডাই ছাড়াও ব্লক প্রিন্টের কাজ হয় মলমলে। এমনিতেই কটন বা সুতি অনেকবার ধোয়ার পরেও নষ্ট হয় না। শুকিয়েও যায় তাড়াতাড়ি। ধুয়ে টানটান করে মেলে দিলে সবসময় ইস্ত্রি করারও প্রয়োজন হয় না। মা-মাসিরা বলে থাকেন, শাড়িতে বাতাস খেলে, তাই শাড়িই কাজকর্মের জন্য ভালো পোশাক। কিন্তু এযুগের মেয়েরা সবসময়ের পোশাক হিসেবে শাড়িকে বেছে না নিলেও ফিরে ফিরে আসছে মল কটনের কাছে। কারণ এ শাড়িতে সত্যিই বাতাস খেলে! গরমে ঘাম শুষে নেয় অথচ অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হয় না।
কথা হচ্ছিল সায়নিতা সরকারের সঙ্গে। তাঁর বুটিক সাঁঝরূপেও মল কটন শাড়ির চাহিদা বেড়েছে। তাঁর কথায়, ‘এই ধরনের ফ্যাব্রিক ব্রিদেবল। তাই সকলেরই পছন্দ এই শাড়ি। এখন নানারকম মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করায় মল কটন আরও চোখ টানছে।’ একরঙা তুলতুলে নরম কাপড়ে কী কী নকশা করা হচ্ছে? সায়নিতা বললেন, ‘বাঁধনির কাজ হচ্ছে। কখনও ডিসচার্জ পেন্টিং। কখনও বা নানারকম লেস, ক্রুশের কাজ করা লেস খুব সুন্দর লাগছে দেখতে। রয়েছে হ্যান্ড ফেব্রিক। থাকছে ছোট ছোট মোটিফে এমব্রয়ডারি ওয়ার্ক। আলাদা করে রং যোগ করা হয়, খেয়াল করতে হয় যে কালার যেন স্কিনে না উঠে আসে। আমরা প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করি। এতে রং ছড়ায় না। ভীষণ নরম শাড়ি। তাই এমব্রয়ডারি জাতীয় কাজ করতে গেলে খুব সাবধানে করতে হয়। শাড়িতে ছোট ছোট প্যাচ বসিয়ে সূক্ষ্ম নকশা তোলা হয়। তা না হলে এই শাড়ি ছিঁড়ে যেতে পারে। এ শাড়িতে কখনও পাথর বসানো হয়। কখনও ছোট ছোট মুক্তো। মিরর ওয়ার্ক করা লেসও বসানো হয় এই সব শাড়িতে। পাড় হিসেবে সেটা খুব সুন্দর মানিয়ে যায় শাড়ির সঙ্গে। কিছু কিছু মল কটনে জরি দিয়ে কাজ হচ্ছে। কিছু শাড়ি বোনার সময়েই চুমকি বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাতে শাইনি লুক আসছে। যাঁরা গ্রীষ্মের ছোটখাট অনুষ্ঠানে হালকা অথচ একটু চোখে পড়ার মতো শাড়ি খোঁজেন, তাদের জন্য এই শাড়িগুলো খুব ভালো অপশন।
এই শাড়ি স্টাইল স্টেটমেন্টটাই বদলে দিতে পারে, জানালেন তিনি। সেমি এথনিক বা এথনিক কাজ করা ব্লাউজের সঙ্গে পরলে এই শাড়ি একটা ব্যতিক্রমী লুক তৈরি করে। কর্মরতা তরুণী হোক বা যারা সবে শাড়িতে সড়গড় হতে শিখছে, তাদের জন্য মল কটন আদর্শ। তারা নিজেরাও এই শাড়ি বেছে নিচ্ছে। এই শাড়ি খুব হালকা, গায়ে লেগে থাকে, তাই ম্যানেজ করা ভীষণ সহজ। পুজোর জন্যও এই শাড়ি ভীষণ ট্রেন্ডিং। পুজোতে কীরকম নকশা খুঁজছে ইয়ং মেয়েরা? সায়নিতা বললেন, ‘ব্লক প্রিন্টস। এখানে মায়ের মুখ দিয়ে মোটিফ করে সুন্দরভাবে শাড়িটা সাদা লালের মধ্যে করা হচ্ছে। অষ্টমীর সকালে অঞ্জলির জন্য পারফেক্ট। পাওয়া যাচ্ছে শিউলি ফুল মোটিফ এমব্রয়ডারি করা মল কটন। দাম ১৫০০-৩২০০ টাকার মধ্যে। বাজেট ফ্রেন্ডলি বলে এই শাড়ির কদর খুব।’
অন্বেষা দত্ত