Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

চন্দ্রমুখীর নামে বেশি দামে কলম্বো, হিমালিনী আলু বিক্রি হচ্ছে না তো? সম্ভাবনা উসকে দিল হিমঘর ও ব্যবসায়ী সমিতি

‘চন্দ্রমুখী’ নামে ক্রেতারা কিছুটা বেশি দামে যে আলু কিনছেন সেটা কি বাস্তবেই ওই জাতের আলু? আলু ব্যবসায়ী থেকে হিমঘর মালিকদের অনেকেই বলছেন, সেটা সবজায়গায় চন্দ্রমুখী নাও হতে পারে! ‘হিমালিনী’, ‘কলম্বো’ প্রভৃতি প্রজাতির সঙ্গে কিছু পরিমাণে চন্দ্রমুখী আলু মিশিয়ে বিক্রি করা হতে পারে।

চন্দ্রমুখীর নামে বেশি দামে কলম্বো,  হিমালিনী আলু বিক্রি হচ্ছে না তো? সম্ভাবনা উসকে দিল হিমঘর ও ব্যবসায়ী সমিতি
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘চন্দ্রমুখী’ নামে ক্রেতারা কিছুটা বেশি দামে যে আলু কিনছেন সেটা কি বাস্তবেই ওই জাতের আলু? আলু ব্যবসায়ী থেকে হিমঘর মালিকদের অনেকেই বলছেন, সেটা সবজায়গায় চন্দ্রমুখী নাও হতে পারে! ‘হিমালিনী’, ‘কলম্বো’ প্রভৃতি প্রজাতির সঙ্গে কিছু পরিমাণে চন্দ্রমুখী আলু মিশিয়ে বিক্রি করা হতে পারে। আবার চন্দ্রমুখীর নামে পুরো হিমালিনী না কলম্বো আলুও বিক্রি হতে পারে। কারণ সংকর প্রজাতির ওই দুই ধরনের আলুর সঙ্গে চন্দ্রমুখীর মিল দৃশ্যত অনেকটাই। সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে এই পার্থক্য বুঝে ওঠা খুবই কঠিন। খাওয়ার সময়ই কিছুটা বোঝা সম্ভব—খাঁটি চন্দ্রমুখী নাকি অন্যকিছু। তবে তাও সবাই বুঝবেন না। 

Advertisement

কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন বাজারে ঢালাও জ্যোতি ও চন্দ্রমুখী আলু আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চন্দ্রমুখীর চাহিদা শহরাঞ্চলেই বেশি। দু-ধরনের আলুর দামের ফারাক অনেকটাই। জ্যোতি অধিকাংশ বাজারে ২০ টাকা কেজি। সেখানে চন্দ্রমুখী মোটামুটি ২৮ টাকা। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির কর্তা লালু মুখোপাধ্যায় জানান, হিমঘর থেকে বেরোনোর পর স্থানীয় পা‌‌ইকারি বাজারে জ্যোতি ও চন্দ্রমুখী বিকোচ্ছে যথাক্রমে ১৪-১৫ টাকা ও ২০ টাকায়। এই নিরিখে কলকাতায় খাঁটি চন্দ্রমুখীরই দাম হওয়া উচিত ২৫ টাকার মধ্যে। 
হিমঘর মালিক সংগঠনের কর্তা পতিতপাবন দে জানান, মোট উৎপাদনের নিরিখে রাজ্যে জ্যোতির তুলনায় চন্দ্রমুখীর ফলন খুব কম। মোট আলুর ফলনের ৫ শতাংশের মতো চন্দ্রমুখী। হুগলি জেলার তারকেশ্বর, ধনেখালিসহ অল্প কয়েকটি স্থানে ও পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, মেমারি প্রভৃতি এলাকায় চন্দ্রমুখীর চাষ হয়। এই চাষে জ্যোতির তুলনায় খরচ বেশি কিন্তু উৎপাদনের হার কম। তাই দাম কিছুটা বেশি পেলেও চন্দ্রমুখী চাষের আগ্রহ কম। 
কিন্তু হিমালিনী-কলম্বোর মতো হাইব্রিড প্রজাতির আলু চাষে এই প্রতিবন্ধকতা নেই। ঩তার চাষ জ্যোতির মতো করা গেলেও উৎপাদন হার বেশি। লালুবাবু জানান, হিমালিনী-কলম্বো প্রজাতির আলু হিমঘর থেকে জ্যোতির মতো ১৪-১৫ টাকা টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চন্দ্রমুখীর সঙ্গে বাইরে থেকে দৃশ্যত মিল বেশি। এজন্য  হিমালিনীর তুলনায় কলম্বো প্রজাতি আলুর চাষে ঝোঁক বেড়েছে। এসব বীজ পাঞ্জাব থেকে আসে। আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্তা জানান, তাঁরা চান বাজারে আসল নামেই আলু বিক্রি হোক। ক্রেতা তাঁর ইচ্ছামতোই আলু কিনুন। রাজ্য সরকারের খাদ্যসামগ্রী বিষয়ক টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে স্বীকার করেছেন, চন্দ্রমুখীর বিষয়ে তাঁরা বিশেষ নজর রাখেন না। কারণ বেশিরভাগ ক্রেতা কম দামের জ্যোতি আলুই কেনেন।

সম্পর্কিত সংবাদ