নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সাতসকালে শিলিগুড়ির অভিজাত এলাকা কলেজপাড়া থেকে এক ছাত্রের ঝুলন্ত পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃত ওই ছাত্রের নাম বিশাল সরকার (২১)। বাড়ি হুগলি জেলার ব্যান্ডেলে হলেও শিলিগুড়ির সেভক রোডের একটি বেসরকারি কলেজে পড়ার কারণে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলে ভাড়া থাকতেন। শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেবও এই পাড়ারই বাসিন্দা।
এদিন সকালে বাড়ির মালিক ফুল তুলতে গিয়ে পচা গন্ধ পাওয়ার পর ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দেন। তবে কোনওরকম সাড়াশব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের মদতে শিলিগুড়ি থানায় খবর দিলে পুলিস আসে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ওই ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিস। তারা দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে, ওই ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার কথা জানানো হয়। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। আমরা একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনা তদন্ত শুরু করেছি। মৃত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ওই ছাত্রের বন্ধুরা জানিয়েছেন, শেষবারের মতো গত শুক্রবার রাতে ওঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁদের। সেদিন যথেষ্ট মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন বিশাল। কিন্তু ঠিক কী কারণে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন ওই ছাত্র তা তাঁর বন্ধুরা অবশ্য বলতে পারেননি। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবারও অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের থেকে খাবার আনিয়েছিলেন ওই ছাত্র। এরপরই আর তাঁর কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীদের দাবি, শনিবার সন্ধ্যাতেও রুমে আলো জ্বলছে, তাঁরা দেখেছিলেন। এরপর আর দেখা যায়নি ছেলেটিকে।
সোমবার সকালে বাড়ির মালিক ছাদে যাওয়ার পর পচা গন্ধ পান। গন্ধের উৎস খুঁজতেই ছাত্রের ঘরের দিকে আসেন। প্রতিবেশী মৌসুমি মুখোপাধ্যায়কে বাড়ির মালিক বিষয়টি জানান। তারপরেই ফ্ল্যাট থেকে শিলিগুড়ি থানায় খবর পাঠানো হয়। পুলিস চলে আসে। প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে দরজা ভাঙা হয়। পুলিসের প্রাথমিক ধারণা, শনিবার এমন ঘটনা ঘটাতে পারে ওই ছাত্রটি। যেকারণে দেহ পচতে শুরু করেছিল। এদিন তাই বিকট গন্ধ বাইরে আসা শুরু করে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মিলি সিনহা বলেন, পাড়ায় কে কোথায় ভাড়া থাকছেন সে সম্পর্কে বারবার বাড়ির মালিকদের থানায় জানাতে বলা হলেও অনেকেই এড়িয়ে যান। সেই কারণে ওই ছাত্রকে আগে থেকে আমি ঠিক চিনি না। ওই ছাত্রের প্রতিবেশী মৌসুমিদেবী বলেন, আমরা ওই ছাত্রকে দেখেছি। শনিবার রাতেও ছাত্রের ঘরে আলো জ্বলতে দেখেছিলাম। এদিন সকালে পচা গন্ধ বের হওয়ার পর বাড়ির মালিক আমাকে জানান। আমরা পরে পুলিসকে বিষয়টি জানাই। ছাত্রের দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিস। - নিজস্ব চিত্র।