সংবাদদাতা, লালবাগ: ফেব্রুয়ারি মাসেও ঠান্ডার ভালোই প্রভাব রয়েছে। তার ফলে মুর্শিদাবাদের বহু আমবাগানে এখনও মুকুলের দেখা নেই। বাগানের বেশিরভাগ গাছেই মুকুল না আসায় আমচাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তাঁরা জানান, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তন না হলে মুকুল আসার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে চাষিরা বড়ো অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। যদিও জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহী বলেন, এখনই একেবারে নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। মুকুল ধরার সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। গরম পড়তে শুরু করলেই গাছ মুকুলে ভরে উঠবে। মুর্শিদাবাদ জেলায় সাধারণত জানুয়ারি মাসের প্রথমদিক থেকেই আমগাছে মুকুল ধরতে শুরু করে। ওই মাসের শেষদিকে প্রায় সমস্ত গাছ মুকুলে ভরে ওঠে। কিন্তু এবছর ঠান্ডার প্রকোপ বেশি থাকায় মুকুল আসতে দেরি হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন বাগানে এখনও অবধি মাত্র ২০-২৫শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে।
এতে আমের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন চাষিরা। বৈচিত্র্য ও স্বাদ-গন্ধের জন্য মুর্শিদাবাদের আমের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। জেলার লালবাগ, জিয়াগঞ্জ, ভগবানগোলা, লালগোলা, জঙ্গিপুর, ধুলিয়ান, ফরাক্কা, ইসলামপুর প্রভৃতি এলাকায় ২০০’র বেশি ছোটোবড়ো আমবাগান রয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদ শহরেই আমবাগানের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। জেলার অর্থনীতিও অনেকাংশে আমের ফলনের উপর নির্ভর করে। প্রতিবছর মুর্শিদাবাদের আম রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হয়। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিদেশের মাটিতেও এই আম রপ্তানি হয়। তাই লাভের আশায় আমচাষিদের পাশাপাশি ফল ব্যবসায়ীরাও আমের মরশুমে ভালো ফলনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। আমচাষিরা জানান, মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করতে হয়। নভেম্বর মাসের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরু থেকে এই কাজে ভালোই খরচ হয়। এত খরচ করার পর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে বেশিরভাগ বাগানে অল্প কয়েকটি গাছে মুকুল এসেছে। এরপরে শত্রুপোকা, কালবৈশাখীতে ক্ষতি তো রয়েইছে।
বাগানের ৭৫-৯০শতাংশ গাছে মুকুল না ধরলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। আমচাষি বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, জেলার বেশিরভাগ আমচাষির নিজের বাগান নেই। তাঁরা বাগান লিজ নিয়ে আম চাষ করেন। প্রায় সমস্ত চাষি সুদে টাকা ধার নিয়ে বাগানে লগ্নি করেন। সাধারণত এসময় অনেক প্রজাতির গাছে আমের গুটি বেঁধে যায়। কিন্তু এবছর খুব অল্প সংখ্যক গাছে সবেমাত্র মুকুল দেখা দিয়েছে। অপর আমচাষি সাদেক আলি বলেন, গত মরশুমে প্রতিটি বাগানে যথাসময়ে গাছ ভরে মুকুল এসেছিল। তাই চলতি বছরে ভালো ফলনের আশায় মোটা টাকা দিয়ে দু’টি বাগান লিজ নিয়েছিলাম। কিন্তু এবার দু’টি বাগানের শতাধিক গাছের মধ্যে মাত্র ১০-১৫টিতে মুকুল এসেছে। কী করব বুঝতে পারছি না। -নিজস্ব চিত্র