নিজস্ব প্রতিনিধি, জামুড়িয়া: রাষ্ট্রমন্ত্রীর পথেই হাঁটলেন পূর্ণমন্ত্রী। উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে একগুচ্ছ কথা বললেও মাটির নীচ থেকে কয়লা কেটে নেওয়ার জন্য যে ধস হচ্ছে, তা নিয়ে মুখে কুলুপ কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী জি কিষান রেড্ডির। কয়েকদিন আগে পুনর্বাসন প্রশ্নে কয়লা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সতীশচন্দ্র দুবে জানিয়েছিলেন, পুনর্বাসন দেওয়া রাজ্যের দায়িত্ব। এদিন কিষান রেড্ডি এনিয়ে কোনও উত্তরই দিলেন না। কয়লা লুটের সঙ্গে ইসিএলের আধিকারিকদের একাংশের জড়িত থাকার অভিযোগ বিজেপি নেতারাই তুলছেন। এদিন সেই কয়লা চুরি প্রসঙ্গেও নীরব থাকলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শনিবার দু’দিনের সফর শেষে তিনি জামুড়িয়া থানার রবীন্দ্রনগর কলোনিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
এদিন কয়লা চুরি প্রসঙ্গে নীরবই থাকলেন একদা তেলেঙ্গানার বিজেপি রাজ্য সভাপতি জি কিষান রেড্ডি। তবে, তিনি ১১ বছর আগের ইউপিএ আমলে কয়লা ব্লক বণ্টনের বেনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, ইউপিএ আমলে ইচ্ছেমতো কয়লা ব্লক দেওয়া হতো। আমাদের আমলে কয়লা ব্লক নিয়ে ব্যক্তিগত ‘মনমানি’ করার জায়গা নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ‘ওপেন অকশনে’র মাধ্যমে কয়লার ব্লক বণ্টন হয়।
পাল্টা কংগ্রেস জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, অনিয়ম হয়ে থাকলে কংগ্রেস নেতাদের জেলে পাঠালেন না কেন? আপনার জানা উচিত, কোর্টে দাঁড়িয়ে ক্যাগ আধিকারিক স্বীকার করেছেন, তিনি ভুল রিপোর্ট দিয়েছিলেন। আর এখন কয়লা ব্লক আদানি, আম্বানি ছাড়া কে পায়?
শুক্রবার ও শনিবার ঝাঁজরা এবং সোনপুরবাজারি, ইসিএলের এই দুই বৃহৎ এরিয়ার বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করেন কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী। কখনও ভূগর্ভস্থ খনিতে নেমে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। কখনও আবার ইসিএলের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কয়লা উৎপাদনের রূপরেখা নিয়ে পর্যালোচনা করেন। এদিন তিনি বলেন, আমরা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক কয়লা উত্তোলনকারী দেশ। তারপরও কয়লার বিপুল চাহিদা রয়েছে। কয়লা থেকেই ৭৪ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। কয়লা উত্তোলন বাড়ানোর জন্য আরও নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, শ্রমিক উন্নয়নে কী করণীয় এবং যাতে স্থানীয়দের বেশি করে কাজ দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। খাদানের বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া এমডিও ও রেভিনিউ শেয়ারিং প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আভাসও মিলেছে মন্ত্রীর গলায়।
সিটু অনুমোদিত কোলিয়ারি মজদুর সভার সাংগঠনিক সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা মন্ত্রীর হাতে একটি দাবিপত্র তুলে দিয়েছি। তাতে খনি বেসরকারিকরণের বিরোধিতা, হাসপাতালগুলির উন্নয়ন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবি রয়েছে। আমরা চাই, খনি অঞ্চলে পুনর্বাসন নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দুই সরকারই সদর্থক ভূমিকা নিক।
রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আসল সমস্যা বুঝতেই চাইছে না। ‘লিগ্যাল টাইটেল হোল্ডার’দের ক্ষতিপূরণের জন্য কোনও টাকা বরাদ্দ করা হয়নি। তাঁদের পুনর্বাসন না দিতে পারলে নন-লিগ্যাল টাইটেল হোল্ডাররাও তা নেবে না। যারজেরে ২৮ হাজার পরিবারের পুনর্বাসন থমকে রয়েছে।