


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: গুরুদক্ষিণা নয়, এই কাহিনি ঠিক তার উলটো। প্রয়াত শিষ্যের প্রতি গুরুর শ্রদ্ধার্ঘ্য! বিশ্বের প্রবীণতম ম্যারাথন রানার ফৌজা সিংয়ের নামে লন্ডনের একটি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ক্লাবহাউস গড়ে তোলার ব্রত নিয়েছেন তাঁর কোচ তথা পথপ্রদর্শক হরমিন্দর সিং। আর লক্ষ্য সামনে রেখেই ২৬ এপ্রিল লন্ডন ম্যারাথনে যোগ দেবেন ৬৬ বছর বয়সি প্রবাসী ভারতীয়।
গত বছর লুধিয়ানায় এক পথ দুর্ঘটনায় মারা যান ১১৪ বছরের ফৌজা সিং। তবে তাঁর কীর্তি ম্লান হওয়ার নয়। ৮৯ থেকে ১০১ বছর বয়স পর্যন্ত এক যুগের ম্যারাথন কেরিয়ারে ৯টি মেগা আসরে অংশ নিয়ে বিশ্ববাসীকে রীতিমতো চমকে দেন তিনি। লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, টরন্টো, মুম্বইয়ের মতো শহরে হাঁটুর বয়সি প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাইলের পর মাইল দৌড়ে গিয়েছেন ফৌজা। যার মধ্যে লন্ডন ম্যারাথনে নব্বই ঊর্ধ্ব বিভাগে গড়েন নতুন রেকর্ড। ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন ৬ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটে। অতীতের রেকর্ডের চেয়ে যা ৫৮ মিনিট কম! মূলত তারই পুরস্কার, ২০১২ লন্ডন অলিমপিকসে মশালবাহকের সম্মান। আর সেই অসাধ্য সাধনে ফৌজাকে পথ দেখিয়েছেন কোচ হরমিন্দর সিং। দু’জনের সম্পর্ক প্রায় আড়াই দশকের। শিষ্যের স্মৃতিচারণায় হরমিন্দর জানিয়েছেন, দৌড় ট্রেনিংয়ের জন্য ফৌজা যখন লন্ডনে তাঁর কাছে আসেন প্রবীণ শিখের বয়স তখন ৮৯। তবু তাঁর অদম্য ইচ্ছা ও মানসিক দৃঢ়তা দেখে ফৌজাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন হরমিন্দর। ১৯৯৯ সালের ১৪ নভেম্বরের সেই সাক্ষাৎ এমন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল, যা শুধু ইতিহাস নতুন করে লেখেনি, কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ও জয় করেছে।
ফৌজার অসামান্য কৃতিত্বকে সম্মান জানাতে হরমিন্দর এবং তাঁর চ্যারিটি সংস্থা ‘শিখস ইন দ্য সিটি’ একটি ক্লাবহাউস তৈরির জন্য তহবিল সংগ্রহ করছে। আর এটি তৈরি হবে সেই ট্রেনিং গ্রাউন্ডে যেখানে ফৌজা এবং ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা একসঙ্গে দৌড়াতেন। ভবনটি নির্মাণে আনুমানিক ১০ লক্ষ পাউন্ড খরচ হবে। স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য ও কল্যাণে এটি ব্যবহৃত হবে। ক্লাবহাউসে চেঞ্জিং রুম, মেডিকেল রিকভারি রুমের পাশাপাশি থাকবে সেমিনার এবং যোগার জন্য উন্মুক্ত জায়গা। বিশাল কর্মকাণ্ডের রূপায়ণে সবার সহযোগিতা পাওয়ার আশায় হরমিন্দর সিং। যাঁরা ১১৪ পাউন্ড (ফৌজার আয়ুষ্কালের প্রতি বছরের জন্য এক পাউন্ড) বা তার বেশি দান করবেন, তাঁদের নাম ক্লাবহাউসের ভিতরে নামফলকে স্থায়ীভাবে খোদাই করা থাকবে।