নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘদিনের আর্থিক বঞ্চনার অবসান চান রাজ্যের বৃত্তিমূলক স্কুলের শিক্ষকরা। রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রিত বৃত্তিমূলক শিক্ষার স্কুলগুলিতে তাঁরা চুক্তির ভিত্তিতে পড়াচ্ছেন। ওই শিক্ষকদের সংগঠন তাঁদের বঞ্চনার অবসান চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দরবার করেছেন।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে তাঁদের সংগঠনের তরফে সমস্যার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। রাজ্যজুড়ে ২২০০ বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক পাঠদান করেন। এই স্কুলগুলিতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ভোকেশনাল কোর্স চালু আছে। ওইসঙ্গে চালু রয়েছে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণদের জন্য বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার কোর্স। বছরে ৭০-৮০ হাজার ছাত্রছাত্রী বৃত্তিমূলক শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন দিকে যান।
অভিযোগ, এই কোর্সের শিক্ষকদের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। বামফ্রন্ট জমানায় তাঁদের নিয়োগ করা হয়। তারপর থেকেই তাঁদের আর্থিক বৈষম্য সঙ্গী। অভিযোগ করেছে ওই শিক্ষকদের সংগঠন।
বিভিন্ন শাখায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা ১৫-২০ বছর চাকরি করছেন। তবু তাঁদের বেতন মাসে মাত্র ৮ হাজার থেকে ১৫ টাকা! কিন্তু স্থায়ী শিক্ষকদের মতোই যাবতীয় দায়দায়িত্ব তাঁদের পালন করতে হয়। নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি দেখতে হয় উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা। সরকারি দপ্তরের অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মতো, ২০২১ সাল থেকে তাঁদের বার্ষিক ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির নিয়ম চালু হয়েছে মাত্র। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে রাজ্যের নতুন সরকার।