Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এন্টালিতে মেয়েদের স্কুলের ক্লাসরুম যেন বিজ্ঞানের কারখানা

মৌলালি মোড়ের অদূরে এন্টালি হিন্দু বালিকা বিদ্যামন্দির। সেখানে ক্লাসরুমগুলো হয়ে উঠেছে বিজ্ঞানের এক-একটি কারখানা। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলে সরস্বতী ঠাকুর এসেছে

এন্টালিতে মেয়েদের স্কুলের ক্লাসরুম যেন বিজ্ঞানের কারখানা
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মৌলালি মোড়ের অদূরে এন্টালি হিন্দু বালিকা বিদ্যামন্দির। সেখানে ক্লাসরুমগুলো হয়ে উঠেছে বিজ্ঞানের এক-একটি কারখানা। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলে সরস্বতী ঠাকুর এসেছে। আর উপরের ক্লাসঘরগুলিতে পড়ুয়ারা হাতেকলমে দেখাচ্ছে বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল সূত্রের সহজ সমাধান। শুধু বিজ্ঞান নয়, পড়ুয়াদের হাতে তৈরি মডেলে ফুটে উঠেছে নিউট্রিশন, সংস্কৃত, ইংরেজির মতো কলা বিভাগের বিষয়গুলিও।

Advertisement

আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে আসা পড়ুয়াদের একমাত্র ভরসার স্থল তাদের দিদিমণিরা। স্কুলে তৈরি হয়েছে ‘ডার্ক রুম’। অন্ধকার ঘরের ভিতর পড়ুয়ারা দেখাচ্ছে, আলোর প্রতিফলনের নানা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। পরিবারের মধ্যে এই পড়ুয়াদের অনেকে প্রথমবার স্কুলের মুখ দেখছে। কেউ থাকে হস্টেলে। বিজ্ঞানের মডেল দেখতে এসে কেউ প্রশ্ন করছেন, তা হয়তো পড়ুয়াদের জানা নেই। সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটে যাচ্ছে দিদিমণির কাছে। স্কুলে এখন ৩০০ জনের মতো পড়ুয়া। অনেকে মাঝেমধ্যে আসতে পারে না। দিদিমণিরা তাদের বাড়িতে যান। সবমিলিয়ে ৬০ ছাত্রী মডেল নিয়ে বসে রয়েছে। বিজ্ঞানের সঙ্গে কলাবিভাগের মেলবন্ধন হয়েছে এখানে। হাতে তৈরি মডেলে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘দ্য জঙ্গল বুক’-এর কাহিনি। দেখানো হচ্ছে, ভেজাল খাবার চেনা যাবে কীভাবে? তৈরি হয়েছে কৃত্রিম আগ্নেয়গিরি। ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলের প্রথমে নাম ছিল সরোজিনী গালর্স। পরবর্তীতে নাম বদলায়।

পড়ুয়াদের নিয়ে এই প্রথমবার এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষিকা বিজয়শ্রী দাস, ঋদ্ধি রায় গুপ্ত, ছবিরানি মাইতি বেরা, অদিতি দাস, নিনা পাঁজা ও প্রধান শিক্ষিকা মহুয়া দাশগুপ্ত সবসময় পড়ুয়াদের চোখে চোখে রেখেছেন। অষ্টম শ্রেণির মিলি মাহাত, নৌসিন খাতুন, নবম শ্রেণির মউ ভট্টাচার্য কিংবা দশমের প্রিয়াঙ্কা পাসওয়ান, সকলেই বেজায় খুশি। তাদের মডেল দেখতে আসা লোকজনের সামনে সবকিছু বুঝিয়ে বলতে পেরে তারাই সবচেয়ে আনন্দিত।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ