নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: শ্রেণিকক্ষে দুষ্টুমি। বকেছিলেন স্যর। গালে মেরেছিলেন একটা থাপ্পড়ও। সেই রাগে ইতিহাসের শিক্ষককে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে উদ্যত দশম শ্রেণির এক ছাত্র। ভাগ্যিস, বন্ধুরা পিস্তলটি কেড়ে নিয়েছিল। তা না হলে কি যে ঘটে যেত, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন ওই শিক্ষক। সোমবার দুপুরে গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের চোরচিতা চৌরেশ্বর হাইস্কুলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুলকালামকাণ্ড বেঁধে যায়। অভিযুক্ত ছাত্র নীলাঞ্জন দোলইকে বেলিয়াবেড়া থানার পুলিস পিস্তল সহ আটক করেছে। স্তম্ভিত স্কুলের শিক্ষকরা। ইতিহাসের শিক্ষক পরিমল অট্ট এদিন সেকেন্ড পিরিয়ডে ক্লাস নিচ্ছিলেন। লাস্ট বেঞ্চে বসে নীলাঞ্জন সহপাঠীদের সঙ্গে দুষ্টুমি করছিল। বারবার বলা স্বত্বেও সে তোয়াক্কা করছিল না। পরিমলবাবু বকাঝকা করেন। কাছে গিয়ে পড়ানোর বিষয় জানতে চাইলে ছাত্রটি বেপরোয়া আচরণ করে। পরিমলবাবু তার গালে চড় মারেন। ক্লাস থেকে বেরিয়ে নীলাঞ্জন চলে যায় প্রধান শিক্ষকের ঘরে। পরিমলবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। কিছু পরে প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে বেরিয়ে যান। টিফিনের সময় প্রধান শিক্ষকের ঘরে পরিমলবাবু ও অন্য একজন শিক্ষক বসেছিলেন। সেই সময় তাঁরা জানলা দিয়ে দেখতে পান, নীলাঞ্জনের হাত থেকে তিনজন ছাত্র পিস্তল কাড়ার চেষ্টা করছে। দেখে তাজ্জব শিক্ষকরা। স্কুলের বাইরে থেকে ছুটে আসেন সিভিক ভলান্টিয়াররা। নীলাঞ্জনের হাত থেকে পিস্তলটি কেড়ে নেন তাঁরা। ততক্ষণে চলে আসেন বেলিয়াবেড়া থানার ওসি। নীলাঞ্জনকে পিস্তল সহ আটক করা হয়। পরিমলবাবু বলেন, ‘ক্লাস নেওয়ার সময় ছেলেটি অত্যন্ত বেয়াদপি করছিল। আমকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেই ওর গালে চড় মারি। সেই কারণেই পিস্তল নিয়ে জানলার কাছে এসেছিল আমাকে গুলি করার জন্য।’



