নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ক্লাসেই শ্লীলতাহানির শিকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী! অভিযুক্ত সহপাঠী এক ছাত্র। জলপাইগুড়ি শহরের নামী বেসরকারি স্কুলের এই ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্কুলের তরফে ছাত্রীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে পুলিস-প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে ওই ছাত্রীর পরিবার। বিষয়টি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির পাশাপাশি জলপাইগুড়ি মহিলা থানা এবং পুলিস সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে তারা। এনিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ আঁটলেও শনিবার বিকেলে পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেলাশাসক শমা পারভীন জানিয়েছেন, অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
ছাত্রীর মায়ের দাবি, ঘটনাটি ঘটে গত ২৩ জুন। ক্লাসে পিছনের বেঞ্চে বসা এক ছাত্র তাঁর মেয়ের শ্লীলতাহানি করে। প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর হাত মচকে দেয় অভিযুক্ত। এনিয়ে যদি সে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নালিশ করে, তাহলে আরও ‘খারাপ’ কিছু করবে বলে শাসায় ছাত্রটি। বিষয়টি প্রথমে কিশোরী ক্লাস টিচারকে জানায়। কিন্তু তিনি প্রথমে সে কথায় আমল দেননি। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে ছাত্রী বিষয়টি স্কুলের প্রিন্সিপালকে জানায়। কিন্তু স্কুলের তরফে অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টে মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ছাত্রীর পরিবারের।
যদিও ক্লাস টিচার শনিবার ফোনে বলেন, কোনও কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করিনি। বিষয়টি প্রিন্সিপাল দেখছেন। স্কুলের বক্তব্য জানতে প্রিন্সিপালকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মেসেজেরও জবাব মেলেনি।
ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, ক্লাসের ভিতর এতবড় ঘটনা ঘটে গেলেও স্কুলের তরফে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। মেয়ে বাড়ি এসে সবটা বলে। পরে ক্লাস টিচার ফোন করে জানান, যে ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সে মানসিকভাবে অসুস্থ। আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে সে। মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা ভেবে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। ঘটনার পর রাতেই ই-মেল করে স্কুলের কাছে বিষয়টি জানতে চাই। তাঁর দাবি, পরদিন লিখিত অভিযোগপত্র নিয়ে স্কুলে নিয়ে গেলেও রিসিভ কপি দিতে অস্বীকার করা হয়। ২৬ জুন বিষয়টি জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে জানাই। শনিবার পুলিস সুপারের অফিসে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ছাত্রী মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছে যে, স্কুলে যেতে চাইছে না বলে জানিয়েছেন তার মা।