সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: কোনো প্রথাগত শিক্ষা নেই। মাত্র আট বছর বয়স থেকে আপন খেয়ালে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছে আলিপুরদুয়ার ম্যাকউইলিয়াম হাইস্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া অঙ্কিত দেবনাথ। আর ১০ বছর বয়স থেকে প্রতিমা বানিয়ে নিজেই পুজো করা শুরু করেছে। অঙ্কিতের বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলা শহর লাগোয়া শোভাগঞ্জ দ্বীপচরে। এবারও প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। পাশাপাশি চলছে পুজোর তোড়জোড়ও।
অঙ্কিতের বাবা অনুকূল দেবনাথ সবজি বিক্রেতা। মা রূপনদেবী গৃহবধূ। দাদা অরিন্দম স্নাতকের পড়ুয়া। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাড়ির পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে কালজানি নদী। এই কালজানির কাদামাটি নিয়ে আপন খেয়ালে নাড়াচাড়া করত অঙ্কিত। মাটি দিয়ে কখনও হাঁড়ি, কখনও কুঁজো তৈরি করত। মাত্র আট বছর বয়সে কীভাবে প্রতিমা তৈরি করতে হয় তা স্বচক্ষে দেখার জন্য বাড়ি থেকে নোনাইপাড়ের কুমোরটুলিতে চলে যেত সে। সেখানে মৃৎশিল্পীদের প্রতিমা তৈরির কাজ দেখত খুব কাছ থেকে। এর পর থেকেই প্রতিমা তৈরির ঝোঁক বাড়ে তার।
এর আগে অনেক পুজো উদ্যোক্তাই অঙ্কিতের তৈরি প্রতিমা কিনে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু অঙ্কিত নিজের তৈরি প্রতিমা বিক্রি করতে রাজি হয়নি। বাড়িতেই নিজের তৈরি প্রতিমার পুজো করে পুরোহিত ডেকে এনে। বাড়ি লাগোয়া একচিলতে খেলার মাঠে ছোট্ট মণ্ডপ তৈরি করে অঙ্কিত মায়ের পুজো করে। এবারও সেই প্রস্তুতি চলছে। পুজোর জন্য প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কোনো চাঁদাও তোলে না। তার বাবা পুজোর সমস্ত খরচ দেয়। এমনিতেই সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা। পুজোর খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয় বাবা-মাকে। সামান্য সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতে হয় অনুকূলবাবুকে। মা রূপনদেবী বলেন, সেই জন্য ছোটো ছেলেকে প্রতিমা তৈরি থেকে সরে আসতেও বলেছি। কিন্তু ছেলে প্রতিমা বানাবেই। তাই আর বাধা দিইনি।
এদিকে অঙ্কিত জানিয়েছে, মায়ের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। • নিজস্ব চিত্র।



