সংবাদদাতা, মানিকচক: বৃহস্পতিবার ভূতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতে বন্যা ত্রাণ বাবদ বৈঠকে ধুন্ধুমার কাণ্ড। বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতে চুলোচুলিতে জড়ালেন দলীয় সদস্যরাই। ঘটনায় দুই মহিলা সদস্য জখম হয়েছেন। একপক্ষ ত্রাণের টাকা লুটের অভিযোগ করায় অন্যপক্ষ মারধর করেছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে ভূতনি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
দক্ষিণ চণ্ডীপুরে বাঁধ ভেঙে তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতি। সেই সময় দক্ষিণ চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতে ত্রাণ ও নৌকা সহ বিভিন্ন খাতে ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কোন কোন খাতে কত খরচ হয়েছে, তার হিসেব পঞ্চায়েতের কাছে চাওয়া হয়েছিল ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সেই বিষয় নিয়ে এদিন পঞ্চায়েতে বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে পঞ্চায়েতের ২০ জন সহ পঞ্চায়েত সমিতির তিন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ত্রাণের খরচ নিয়ে বাক্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত বৈঠক ভেস্তে যায়।
সূত্রের খবর, বৈঠক থেকে বের হওয়ার সময়ই প্রধানের বিরুদ্ধে কটূ মন্তব্য করেন পঞ্চায়েত সদস্য প্রতিমা মণ্ডল, প্রিয়া মণ্ডল সহ কয়েকজন বিজেপি সদস্য। তার প্রতিবাদ করেন অর্চনা মণ্ডল সহ কয়েকজন দলেরই সদস্য। তাপরইে বচসায় জড়িয়ে পড়েন মহিলা সদস্যরা। মুহূর্তের মধ্যে তা সংঘর্ষে পরিণত হয়। মহিলা সদস্যরা একে অপরের চুল ধরে টানাটানি শুরু করেন। তাঁদের ছাড়াতে গিয়ে হাতাহাতি হয় বিজেপি সদস্যদের মধ্যেও। যদিও পঞ্চায়েতে থাকা অন্য কর্মী ও সদস্যদের তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় প্রিয়া ও অর্চনা জখম হন।
অর্চনা বলেন, ত্রাণের টাকা বেআইনিভাবে খরচ করায় প্রধানকে চাপ দিচ্ছিলেন প্রতিমা, প্রিয়া, শঙ্কর মণ্ডল সহ বেশকিছু সদস্য। তাই এদিন বৈঠক ভেস্তে যায়। তাঁরা প্রধান এবং আমাদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করায় প্রতিবাদ করি। সেজন্য আমাকে বেধড়ক মারধর করেছে।
পাল্টা প্রতিমা ও প্রিয়া বলেন, ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি করতে চাইছিলেন প্রধান। আমাদের ফাঁকা রেজ্যুলেশনে সই করতে বলা হয়। কয়েকজন সদস্য রাজি না হওয়ায় বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় প্রধান সহ অন্যরা আমাদের মারধর করেন।
পঞ্চায়েতের প্রধান শক্তি মণ্ডল বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে নৌকা ভাড়া, ত্রাণের সামগ্রী নিয়ে আসা সহ বিভিন্ন খাতে যে সমস্ত খরচ হয়েছে, সেসব নিয়েই এদিন বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে, কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য অনৈতিকভাবে টাকা লুটের চেষ্টা করছেন। ফলে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বৈঠকে শুধু পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের থাকার কথা। কিন্তু বেশকিছু বহিরাগতকে এনেছিলেন প্রতিমা মণ্ডলরা।
এনিয়ে ভূতনি থানায় অর্চনা পঞ্চায়েতের পাঁচ বিজেপি সদস্য সহ ১০ জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিস জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মারামারিতে আহত বিজেপি প্রধান। - নিজস্ব চিত্র।