নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বর্ষা আসতে এখনও অনেকটাই দেরি। যদিও বিগত দিনগুলির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যে কোনও প্রকার বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। ভরা বর্ষায় বন্যা পরিস্থিতি সহ অন্যান্য প্রতিকূলতার ক্ষেত্রে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক ও সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতেই নজর দেওয়া হয়েছে বন্যা প্রবণ এলাকাগুলির দিকে। ভরা বর্ষায় ওইসব এলাকায় নদীর জল স্ফীতি হয়েজ ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা জলে ভাসলে স্থানীয়দের নিরাপদআশ্রয় সুনিশ্চিতকরতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে জেলার ৭টি ফ্লাড শেল্টারের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ জারি হয়েছে। ফ্লাডশেল্টার গুলিতে আলো, জল সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো ঠিক ঠাক রয়েছে কিনা, ব্লক ভিত্তিক ভাবে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে আগামীতে জেলা প্রশাসনের কর্তারা প্রতিটি ফ্লাড সেন্টার পরিদর্শন করবেন বলেও জানা গিয়েছে।
এবিষয়ে এক আধিকারিক বলেন, ইতিমধ্যে জেলা ও ব্লক স্তরে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি সারতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে জেলায় বেশকিছু নতুন সরঞ্জাম ও এসেছে। আরও কিছু সরঞ্জাম আসতে চলেছে। সেইসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জুন মাসের শুরু থেকে প্রতিটি ব্লকে কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে। বন্যা পরিস্থিতিতে যেকোনও প্রকার উদ্ধার কাজের ক্ষেত্রে জেলার তিনটি মহকুমায় একটি করে স্পিড বোট রয়েছে। তবে বোলপুরের স্পিডবোটে যান্ত্রিক ত্রুটি নজরে আসতেই তা কল্যাণীতে মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। যদিও ওই স্পিডবোট মেরামত করা খুব একটা সহজ নয় বলেই জানা গিয়েছে। ফলত প্রাক বর্ষায় বোলপুর মহকুমা নয়া স্পিডবোট পেতে চলেছে বিপর্যয় মোকাবিলায়।
এছাড়াও জেলায় নতুন করে ৪০টি লাইফ বয়া আসতে চলেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ব্লকে দু’টি করে লাইফ বয়া পাঠানো হবে। এছাড়াও জেলা সদরেও পৃথক ভাবে দু’টি লাইফ বয়া রাখা হবে। সেইসঙ্গে জেলার প্রতিটি ব্লকের ভলান্টিয়ারদের জন্য হেলমেট এসে পৌঁছেছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় বীরভূম জেলার সিউড়ি, বোলপুর ও রামপুরহা: মহকুমা মিলিয়ে মোট ১১০৬ জন সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও ক্ষেত্রে লোকবলের অভাব দেখা দিলে আপদ মিত্র ভলান্টিয়ারদের কাজে লাগানো হয়। বর্তমান সময়ে জেলায় মোট আপদ মিত্র ভলান্টিয়ারেরসংখ্যা ৩০০। জেলার রামপুরহাট মহকুমায় আপদ মিত্র ভলান্টিয়ারের সংখ্যা সব থেকে বেশি রয়েছে। ওই মহকুমায় প্রায় ১৩৭ জন আপদ মিত্র ভলান্টিয়ার রয়েছে।